শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কাজী নজরুল ছিলেন মাটি ও মানুষের কবি

মুস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ মে, ২০২৫, ৮:৪৭ পিএম
কাজী নজরুল ছিলেন মাটি ও মানুষের কবি

সেক্সপিয়ারকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে মিল্টন বলেছিলেন sweetest shakespeare francy’s child। কবি নজরুল সম্পর্কেও এ কথাটি আশ্চর্যজনকভাবে উচ্চারণ করা সম্ভব। নজরুলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে যা বুঝায়, তেমন একটা ছিল না কিন্তু তিনি ছিলেন প্রকৃতির বর পুত্র। প্রকৃতি যেন তার শিক্ষার দায়িত্ব নিজের হাতে গ্রহণ করেছিলেন। তাই নজরুল প্রতিভার ক্রমবিকাশ হয়নি ,বলা যায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল । আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় খ্যাতি অন্য কোন কবি অর্জন করেননি ।বস্তুত বাংলা সাহিত্যে নজরুল একটা অনিবার্য ঝঞ্ঝার মত আবির্ভূত হলেন এবং প্রচলিত প্রবণতাকে ছিন্ন করে বাংলা কবিতার নতুন মাত্রা যুক্ত করলেন। নজরুল যথার্থভাবে মাটি ও মানুষের কবি।

নজরুল ইসলাম ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, গায়ক, নাটক ও সিনেমার অভিনেতা এবং পরিচালক। বহু সিনেমায় তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমার পরিচালকএবং সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন । আকাশ বাণীতে সংগীত পরিবেশন ও পরিচালনা ছাড়াও কোরআন শিক্ষার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন।

তিনি কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নাটক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশি বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ও সোচ্চার কন্ঠ ছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী কবিতা “আনন্দময়ীর আগমন ” লেখার জন্য জেল খেটেছেন।উনার পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ১৯২৬ সালে পুর্ববঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় আইন সভার উচ্চ পরিষদের সদস্য পদের জন্য নির্বাচন করেন।

তিনি ছিলেন যৌবনের কবি,সাম্যবাদের কবি, প্রেমের কবি,মানবতার কবি,।নবজাগরণের কবি,সুন্দরের কবি, উদ্দীপনার কবি, গানের কবি। তাঁর বিদ্রোহী কবিতা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাব্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাঁর গান ও কবিতা বাংলাদেশের মুক্তি কামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রেরণা জুগিয়েছে।

Model Hospital

তিনি অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব ছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছেন “সবকিছু ভাগ হয়েছে ভাগ হয় নাইকো নজরুল” তাঁর যেমন নিতাই ঘটক, জগৎ ঘটক,প্রতিভা বসু, কানন দেবী ছিলেন তেমনি সুফী জুলফিকার হায়দার, মুজাফফর আহমদ,আলী আকবর খাঁন, কাজী মোতার হোসেন, মিস ফজিলাতুন্নেসা নিত্যদিনের সাহিত্যকর্মের সঙ্গী ছিলেন। তিনি এক দিকে যেমন লিখেছেন ইসলামিক গান গজল, হামদ,নাথ অন্যদিকে লিখেছেন শ্রেষ্ঠ শ্যামা সংগীত, কীর্তন , ভজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ছিল তাঁর মধুর ও স্নেহের সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথ তাঁর” বসন্ত গীতি “নাটকটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। কবি উল্লসিত হয়ে লিখেছেন “আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে” কবিতাটি। পরবর্তীতে নজরুল তার সঞ্চিতা কাব্য সংকলন রবীন্দ্রনাথকে উ যে যেৎসর্গ করেন।রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু দিন শোকাহত নজরুল “রবিহারা ও সালাম অস্ত রবি” কবিতা এবং শোক সংগীত “ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে “গানটি লিখেন এবং স্বকণ্ঠে কলকাতার বেতার আকাশবাণী থেকে আবৃত্তি করেছেন।

এই অসাম্প্রদায়িক মহামানবের ১২৬তম জন্ম দিনে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ভালোবাসা।

লেখক পরিচিতি: মুস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী, লেখক ও সংগঠক। প্রাক্তন উপ- মহাব্যবস্থাপক (হিসাব), বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’