শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সম্পাদকীয়

শোকের ছায়ায় চাঁদপুর-মৃত্যুর মিছিলে মানবিক বিপর্যয় ও আমাদের সতর্কতা

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম
শোকের ছায়ায় চাঁদপুর-মৃত্যুর মিছিলে মানবিক বিপর্যয় ও আমাদের সতর্কতা

​সম্প্রতি চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া সিরিজ দুর্ঘটনা ও মৃত্যু সংবাদগুলো কেবল কয়েকটি শিরোনাম নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের একেকটি করুণ উপাখ্যান। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মহামায়ার বাবলুর মৃত্যু থেকে শুরু করে হাজীগঞ্জে মায়ের দাফনের সময় মেয়ের মৃত্যুর ঘটনাগুলো আমাদের অস্তিত্বের নড়বড়ে অবস্থাকেই যেন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

​১. প্রবাসে স্বপ্নভঙ্গ ও সহমরণের বেদনা
​সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবলুর মৃত্যু একটি পরিবারের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু ট্র্যাজেডি সেখানেই শেষ হয়নি; স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে স্ত্রীর চলে যাওয়া আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সম্পর্কের গভীরতা এবং মানসিক আঘাতের ভয়াবহতা। এটি প্রমাণ করে যে, অনেক সময় শারীরিক আঘাতের চেয়েও শোকের মানসিক আঘাত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

​২. সড়ক যেন এক মরণফাঁদ
​ঘোষেরহাটে আইদি পরিবহনের বাসের চাপায় কলেজ শিক্ষার্থী শান্তার মৃত্যু আবারও আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার কঙ্কালসার রূপটি প্রকাশ করেছে। একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে অকাল ঝরে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বেপরোয়া গতি এবং সড়কের অব্যবস্থাপনা কেড়ে নিচ্ছে আগামী দিনের নেতৃত্ব। শান্তার এই মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

​৩. হাজীগঞ্জের অলৌকিক কিন্তু বিষাদময় বিদায়
​মায়ের দাফন সম্পন্ন করার সময় মেয়ের মৃত্যু—এমন ঘটনা বিরল এবং অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এটি যেন এক চূড়ান্ত বিচ্ছেদের গল্প, যেখানে শোক সামলানোর শক্তিটুকুও প্রকৃতি আমাদের দেয়নি। গ্রামজুড়ে নেমে আসা এই শোক স্তব্ধ করে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে।

Model Hospital

​এই ধারাবাহিক মৃত্যু সংবাদগুলো থেকে আমাদের কয়েকটি বিষয় গভীরভাবে ভাববার অবকাশ রয়েছে:

​মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব: শোকের সময় স্বজনদের একাকী না রেখে তাদের পাশে থাকা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া কতটা জরুরি, তা বাবলুর স্ত্রীর মৃত্যু থেকে স্পষ্ট।
​

সড়ক নিরাপত্তা: শান্তার মৃত্যু আমাদের দাবি তুলতে বাধ্য করে—আর কত প্রাণ গেলে সড়কের এই নৈরাজ্য বন্ধ হবে? ঘাতক চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

​প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা: আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশের মাটিতে কতটা অনিরাপদ অবস্থায় কাজ করছেন বা যাতায়াত করছেন, তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও জোরালো তদারকি প্রয়োজন।

চাঁদপুরের গ্রামগুলোতে আজ যে কান্নার রোল, তা যেন অচিরেই সান্ত্বনায় রূপান্তরিত হয়। তবে কেবল সান্ত্বনা নয়, ভবিষ্যতে এমন অকাল মৃত্যু রোধে সচেতনতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।