শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কি হবে আর ছবি তুলে!

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, ১:২০ পিএম
কি হবে আর ছবি তুলে!

গভীর রাতে রাস্তার ধারের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা থেকে শিশুদের হাসির খিলখিল শব্দ শুনেই দৃষ্টি যায় সেদিকে।

চোখে পড়ে একটি ভবনের কার্নিশের নিচে ফুটপাতে বসে ছোট ছোট ১ সন্তানের মুখে পরম মমতায় ভাত তুলে দিচ্ছেন মা। আর পাশেই শুয়ে আছে আরেক শিশু। সেই ভাত খেতে খেতেই নিজেদের মধ্যে খুনসুটিতে মেতেছে ওই শিশু ও তার মা।

শনিবার (২৪ মে) গভীর রাতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের হাজীগঞ্জ মধ্যবাজার পদ্মা ব্যাংকেন সামনে দেখা মেলে এমন দৃশ্যের।

ইচ্ছে করছিল দৃশ্যটা মুঠোফোনে বন্দি করতে। কিন্তু বিবেকে নাড়া দিয়েছে।

Model Hospital

কি হবে আর ছবি তুলে! সামান্য কয়েকটি লাইক কমেন্ট শেয়ার পাবো হয়তো। তাতে কি আদৌ তাদের অভাব দূর করতে পারবো!!

এই জেলারই (চাঁদপুরের) কোন এক শ্রমিক সেখানে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় কুড়িগ্রামের রাবেয়ার সাথে। পরিচয়ের সূত্র ধরে রাবেয়ার পরিবারের সাথে সখ্যতা বাড়ে ছাইদুলের। নাম ঠিকানা না জানা এই ছাইদুল কে বিশ্বাস করে বিয়ে করেন। শ্বশুরবাড়িতে উঠিয়ে আনবেন বলে কাটিয়ে দেন পাঁচটি বছর। একে একে রাবেয়ার গর্বে জন্ম নেয় দুটি সন্তান। হঠাৎ একদিন ছাইদুলের মা অসুস্থ বলে চলে আসেন বাড়িতে। সেই যে আসছে তারপর নেই কোন হাদিস।

চার মাস স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে দুই সন্তান সহ ছুটে আসেন চাঁদপুরে।

কখনো খেয়ে না খেয়ে রাস্তা বা ফুটপাতে ঘুমিয়ে কাটান রাবেয়া। সেখানেও ভয় মাদ”কাস”ক্ত”দের। তাদের ইশারা ইঙ্গিতে কেঁপে উঠে রাবেয়ার আত্মা। নিজে খেতে না পারলেও হোটেলের ফেলে দেওয়া খাবার গুলো কুড়িয়ে নেন রাবেয়া। সেই খাবার তুলে দেন সন্তানদের মুখে। ঠিকানা বা ছবি না থাকার কারণে খোঁজ মিলছে না সাইদুলেরও ।

এভাবে খুঁজতে খুঁজতে ফিরে যাবেন রাবেয়া। দুই সন্তান বেড়ে উঠবে পিতার পরিচয় ছাড়া। হয়তো ছাইদুলরা অন্য কোন রাবেয়াকে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন।

ভুলে গেছেন দুই সন্তান আর রাবেয়ার কথা।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।