বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কি হবে আর ছবি তুলে!

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪, ১:২০ পিএম
কি হবে আর ছবি তুলে!

গভীর রাতে রাস্তার ধারের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গা থেকে শিশুদের হাসির খিলখিল শব্দ শুনেই দৃষ্টি যায় সেদিকে।

চোখে পড়ে একটি ভবনের কার্নিশের নিচে ফুটপাতে বসে ছোট ছোট ১ সন্তানের মুখে পরম মমতায় ভাত তুলে দিচ্ছেন মা। আর পাশেই শুয়ে আছে আরেক শিশু। সেই ভাত খেতে খেতেই নিজেদের মধ্যে খুনসুটিতে মেতেছে ওই শিশু ও তার মা।

শনিবার (২৪ মে) গভীর রাতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের হাজীগঞ্জ মধ্যবাজার পদ্মা ব্যাংকেন সামনে দেখা মেলে এমন দৃশ্যের।

ইচ্ছে করছিল দৃশ্যটা মুঠোফোনে বন্দি করতে। কিন্তু বিবেকে নাড়া দিয়েছে।

Model Hospital

কি হবে আর ছবি তুলে! সামান্য কয়েকটি লাইক কমেন্ট শেয়ার পাবো হয়তো। তাতে কি আদৌ তাদের অভাব দূর করতে পারবো!!

এই জেলারই (চাঁদপুরের) কোন এক শ্রমিক সেখানে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় কুড়িগ্রামের রাবেয়ার সাথে। পরিচয়ের সূত্র ধরে রাবেয়ার পরিবারের সাথে সখ্যতা বাড়ে ছাইদুলের। নাম ঠিকানা না জানা এই ছাইদুল কে বিশ্বাস করে বিয়ে করেন। শ্বশুরবাড়িতে উঠিয়ে আনবেন বলে কাটিয়ে দেন পাঁচটি বছর। একে একে রাবেয়ার গর্বে জন্ম নেয় দুটি সন্তান। হঠাৎ একদিন ছাইদুলের মা অসুস্থ বলে চলে আসেন বাড়িতে। সেই যে আসছে তারপর নেই কোন হাদিস।

চার মাস স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে দুই সন্তান সহ ছুটে আসেন চাঁদপুরে।

কখনো খেয়ে না খেয়ে রাস্তা বা ফুটপাতে ঘুমিয়ে কাটান রাবেয়া। সেখানেও ভয় মাদ”কাস”ক্ত”দের। তাদের ইশারা ইঙ্গিতে কেঁপে উঠে রাবেয়ার আত্মা। নিজে খেতে না পারলেও হোটেলের ফেলে দেওয়া খাবার গুলো কুড়িয়ে নেন রাবেয়া। সেই খাবার তুলে দেন সন্তানদের মুখে। ঠিকানা বা ছবি না থাকার কারণে খোঁজ মিলছে না সাইদুলেরও ।

এভাবে খুঁজতে খুঁজতে ফিরে যাবেন রাবেয়া। দুই সন্তান বেড়ে উঠবে পিতার পরিচয় ছাড়া। হয়তো ছাইদুলরা অন্য কোন রাবেয়াকে বিয়ে করে সংসার পেতেছেন।

ভুলে গেছেন দুই সন্তান আর রাবেয়ার কথা।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।