শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গণটিকার ১ম ডোজ; মতলব উত্তরে লক্ষ্যমাত্রা ১৩৫০০, প্রয়োগ ২৯৬২৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৪:৪২ পিএম
গণটিকার ১ম ডোজ; মতলব উত্তরে লক্ষ্যমাত্রা ১৩৫০০, প্রয়োগ ২৯৬২৫

মতলব উত্তর ব্যুরো : দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলছে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম।

২৬ ফেব্রুয়ারি দেশের এক কোটি মানুষকে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুরু হয় গণটিকা কার্যক্রম। এরপরে সীমিত পরিসরে প্রয়োজন বিবেচনায় কিছু কেন্দ্রে প্রথম ডোজ দেওয়া হলেও কার্যত ২৬ ফেব্রুয়ারিই শেষবারের মতো প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনে ভ্যাকসিন নিতে কোনো ধরনের নিবন্ধন করতে হবে না। এমনকি যারা নিবন্ধন করেও ভ্যাকসিন পাননি, তারাও ক্যাম্পেইনে নিতে পারবে ভ্যাকসিন।

এরই আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১টি পৌরসভার ও ১৪টি ইউনিয়নের ১৩ হাজার ৫শ’ জনকে টিকার ১ম ডোজ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু উপজেলার ৪৫টি টিকা কেন্দ্রের মাধ্যমে গতকাল ২৬ ফেব্রয়ারি শনিবার পর্যন্ত ২৯ হাজার ৬২৬জনকে ১ম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। আজ (রবিবার) আরো ৫ হাজার জনকে টিকার প্রথম ডোজ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ হাজার ৪১১জন, ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ২হাজার ২১৪ জনকে টিকা প্রদান করা হয়। গতকাল শরিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ১৫ হাজার জনকে টিকা প্রদান করা হয়। আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) আরো ৫ হাজার জনকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে ।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মতলব উত্তর উপজেলার ৪৫টি কেরন্দ্র একযোগে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম চলমান হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় মতলব উত্তর উপজেলায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম চলমান থাকবে। সাধারণত টিকাদান ৩টা পর্যন্ত চললেও আজকে এই কর্মসূচি লক্ষ্যপূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান বলেন, ক্যাম্পেইনে জন্মনিবন্ধন বা কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগবে না ভ্যাকসিন নিতে। সেখানে মোবাইল নম্বর দিয়েই ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে। মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তাদের তথ্য নথিভুক্ত করে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তাদের একটি করে কার্ড দেওয়া হবে। সেটিই হবে তার ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই যাদের নিবন্ধন আছে তারাও প্রয়োজনে ভ্যাকসিন কার্ড নিয়ে আসতে পারেন। ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম চলবে।

শনিবার মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় ভ্যাকসিন নিতে আসা মানুষের ভিড়। উপজেলার বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’