বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

রাজনীতির প্রাণ ত্যাগী কর্মীরা, নাকি কেবল প্রভাবশালীরা?

শাহরিয়ার জামান তনয় প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
রাজনীতির প্রাণ ত্যাগী কর্মীরা, নাকি কেবল প্রভাবশালীরা?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্যাগী ও মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন সবসময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। কারণ রাজনীতি শুধু ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা প্রভাবের নাম নয়— এটি মানুষের বিশ্বাস, দীর্ঘ সংগ্রাম আর অসংখ্য ত্যাগের গল্প।

রাজনীতির বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, একজন প্রকৃত কর্মীর পথ কতটা কঠিন। দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠ না ছাড়া, মামলা-হামলা কিংবা ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া— এগুলো কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ নয়, বরং এক ধরনের আত্মত্যাগ।

আমার খুব কাছ থেকে দেখা একজন মানুষ আছেন, যিনি দলের কঠিন সময়গুলোতে কখনও পিছিয়ে যাননি। যখন রাজনৈতিক পরিচয়ই অনেকের জন্য ভয়, চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণ ছিল, তখনও তিনি মানুষের পাশে থেকেছেন। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় নির্বাচন করেছেন, মানুষের ভালোবাসা ও বিপুল সমর্থনে দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

কিন্তু সেই সময়গুলো মোটেও সহজ ছিল না। দিনের পর দিন পরিবার থেকে দূরে থাকা, রাজনৈতিক চাপ, মামলা-হামলার আতঙ্ক, নির্বাচন এলেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের মহড়া— এসবই ছিল বাস্তবতা। তবুও তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের পাশে থাকার দায়িত্ব হিসেবেই নিয়েছেন।

Model Hospital

আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক সময় মনে হয়, রাজনীতির মূল দর্শন যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। ত্যাগ, আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার চেয়ে অর্থ ও প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান সেই মানুষগুলো, যারা বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। কারণ একজন প্রকৃত কর্মীর কাছে রাজনীতি কেবল পরিচয় নয়— এটি আবেগ, আত্মত্যাগ এবং জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়গুলোর একটি।

ইতিহাস বলছে, যখন রাজনীতি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের হাত থেকে সরে গিয়ে সুবিধাবাদী কিংবা শুধুমাত্র প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনীতির দূরত্ব তৈরি হয়। আর সেই দূরত্ব কোনো দল কিংবা গণতন্ত্রের জন্যই শুভ নয়।

একটি রাজনৈতিক দল তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যখন সেখানে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনভিত্তিসম্পন্ন মানুষদের সম্মান দেওয়া হয়। কারণ মাঠের কর্মীরাই একটি দলের আসল শক্তি, সংকটের সময়ের ভরসা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগের সবচেয়ে বড় সেতুবন্ধন।

রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের আস্থা, আদর্শ ও দায়িত্ববোধের জায়গা। কারণ শেষ পর্যন্ত জনগণ সবকিছুই দেখে, মনে রাখে এবং সময়মতো তার মূল্যায়নও করে।

লেখক : শাহরিয়ার জামান তনয়

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ

সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসার বার্ষিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন।

চাঁদপুর শহরের আদশ্য বিদ্যাপীঠ আনোয়ারা -মতিউর মডেল মাদরাসায় বার্ষিক ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী জিটি রোড উত্তর এলাকাস্থ মাদরাসা মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন। তিনি বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা অর্জন করতে ইসলাম তাগিদ প্রদান করেছেন। আর সেই আলোকে যদি আমরা শিক্ষা অর্জন করি— তাহলে সেটা হবে নিজের জন্য, দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য। সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রমিত বৃথা যাবে। তাই সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে বাবা মাকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। পাশাপাশি তারা যেন এমন শিক্ষা পায়, যা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

তিনি বলেন, পৌরসভার নাগরিক হিসেবে ১৫নং ওয়ার্ড উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। তার সাথে লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে। বিশেষ করে জিটি রোড উত্তর এলাকার মানুষের জীবন যাপন দেখলে বুঝা যায়, তারা রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা থেকে কতটা পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয় এখানকার নাগরিকদের শুধুমাত্র ভোট আর ট্যাক্সের জন্য পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পৌরসভার সেবা দিতে নয়। আপনাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে, আগামীতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অনেক বেশি সর্তককে এবং দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন ব্যক্তিকে পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন, যিনি সত্যিকার অর্থে আপনার আমানতের প্রতিদান দিবে।

আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, সমাজকে উন্নত করতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর সেই শিক্ষাটা হতে হবে আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা। বর্তমানে চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব কিশোরগ্যাং ও মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এমনসব সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে নানাবিধ উদ্যোগ গ্ৰহণ করছেন। আমাদের সাংবাদিক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজী তার বাবা মায়ের নামে জিটি রোড এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন‌‌। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চা এবং শৃঙ্খলা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এজন্য আমার পক্ষ থেকে মাওলানা মোঃ আবদুর রহমানসহ সকল শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

Model Hospital

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ সুমন খান ও দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল হক বেপারী।

মাদরাসার শিক্ষক মহিবুর রহমান মহিব্বুলাহর সঞ্চালনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মাদরাসার শিক্ষক মোঃ রাশেদ হোসেন, মোঃ আঃ ছাত্তার খাঁন ও আব্দুল আলী আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ( গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য)  আশিক বিন রহিম, এলাকার মুরব্বি ও শিক্ষানুরাগী মোঃ মিজানুর রহমান মিজি, মোঃ লোকমান হোসেন তালুকদার, মাদরাসার শিক্ষক মোঃ আবুল খায়ের, মোঃ জসিম উদ্দিন ও বোরহান সাইফ।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও কবিতা আবৃতিতে শ্রেণীভিত্তিক অংশ নেন। বিজয়ীদের আগামী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বাদ মাগরিব পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অভিভাবক সমাবেশ শেষে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন।