শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

রাজনীতির প্রাণ ত্যাগী কর্মীরা, নাকি কেবল প্রভাবশালীরা?

শাহরিয়ার জামান তনয় প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
রাজনীতির প্রাণ ত্যাগী কর্মীরা, নাকি কেবল প্রভাবশালীরা?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্যাগী ও মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন সবসময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। কারণ রাজনীতি শুধু ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা প্রভাবের নাম নয়— এটি মানুষের বিশ্বাস, দীর্ঘ সংগ্রাম আর অসংখ্য ত্যাগের গল্প।

রাজনীতির বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, একজন প্রকৃত কর্মীর পথ কতটা কঠিন। দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠ না ছাড়া, মামলা-হামলা কিংবা ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া— এগুলো কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ নয়, বরং এক ধরনের আত্মত্যাগ।

আমার খুব কাছ থেকে দেখা একজন মানুষ আছেন, যিনি দলের কঠিন সময়গুলোতে কখনও পিছিয়ে যাননি। যখন রাজনৈতিক পরিচয়ই অনেকের জন্য ভয়, চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণ ছিল, তখনও তিনি মানুষের পাশে থেকেছেন। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় নির্বাচন করেছেন, মানুষের ভালোবাসা ও বিপুল সমর্থনে দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

কিন্তু সেই সময়গুলো মোটেও সহজ ছিল না। দিনের পর দিন পরিবার থেকে দূরে থাকা, রাজনৈতিক চাপ, মামলা-হামলার আতঙ্ক, নির্বাচন এলেই এলাকায় সন্ত্রাসীদের মহড়া— এসবই ছিল বাস্তবতা। তবুও তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের পাশে থাকার দায়িত্ব হিসেবেই নিয়েছেন।

Model Hospital

আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক সময় মনে হয়, রাজনীতির মূল দর্শন যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। ত্যাগ, আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার চেয়ে অর্থ ও প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান সেই মানুষগুলো, যারা বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। কারণ একজন প্রকৃত কর্মীর কাছে রাজনীতি কেবল পরিচয় নয়— এটি আবেগ, আত্মত্যাগ এবং জীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায়গুলোর একটি।

ইতিহাস বলছে, যখন রাজনীতি ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের হাত থেকে সরে গিয়ে সুবিধাবাদী কিংবা শুধুমাত্র প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনীতির দূরত্ব তৈরি হয়। আর সেই দূরত্ব কোনো দল কিংবা গণতন্ত্রের জন্যই শুভ নয়।

একটি রাজনৈতিক দল তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যখন সেখানে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনভিত্তিসম্পন্ন মানুষদের সম্মান দেওয়া হয়। কারণ মাঠের কর্মীরাই একটি দলের আসল শক্তি, সংকটের সময়ের ভরসা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগের সবচেয়ে বড় সেতুবন্ধন।

রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের আস্থা, আদর্শ ও দায়িত্ববোধের জায়গা। কারণ শেষ পর্যন্ত জনগণ সবকিছুই দেখে, মনে রাখে এবং সময়মতো তার মূল্যায়নও করে।

লেখক : শাহরিয়ার জামান তনয়

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।