যাদের হাতে রাষ্ট্র নিরাপদ—অঞ্জনা খান মজলিশদের পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই
দীপু মনির অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে চাকরি ও জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন যে ডিসি
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হলো একটি সৎ, নিরপেক্ষ ও সাহসী প্রশাসন। সেই প্রশাসনের এমন কিছু কর্মকর্তা আছেন, যারা রাজনৈতিক চাপ, ক্ষমতার প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত ঝুঁকির কাছে মাথা নত না করে ন্যায় ও আইনের পক্ষে অটল থাকেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (অর্থ) হিসেবে কর্মরত যুগ্মসচিব অঞ্জনা খান মজলিশকে অনেকেই এমন একজন কর্মকর্তা হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

প্রশাসনিক অঙ্গনে তিনি একজন সৎ, দক্ষ ও কর্মঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। ছাত্রজীবনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও পারিবারিক দূরসম্পর্কীয় কয়েকজন আত্মীয়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনে তাকে নানা সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অঞ্জনা খান মজলিশের বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা এবং তার কোনো আপন চাচা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে বাবার তিন চাচাতো ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে দাউদ খান মজলিশ ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তথ্য উপদেষ্টা, ইয়াহিয়া খান মজলিশ ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এবং সামসুদ্দোহা খান মজলিশ ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য।

ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজে অরাজনৈতিক হওয়া সত্ত্বেও এই দূরসম্পর্কীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন সময়ে বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। অতীত ও বর্তমান—দুই ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার দৃঢ়তা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। সে সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির অন্যায্য দাবি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি প্রশাসনিকভাবে আপত্তি জানান এবং আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এই অবস্থানের কারণে তাকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের পাশাপাশি ব্যাপক অপপ্রচার ও নানা ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রভাবশালী মহলের চাপ, পদ হারানোর আশঙ্কা কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার শঙ্কা—কোনোটিই তাকে নীতি ও দায়িত্ববোধ থেকে সরাতে পারেনি। বরং তিনি বিশ্বাস করেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তার সততা, নিরপেক্ষতা এবং আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা।
আজও প্রশাসনে এমন কর্মকর্তা দেশের জন্য আশার প্রতীক। কারণ একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সৎ কর্মকর্তারা ভয় নয়, ন্যায়কে বেছে নেওয়ার সাহস পান।
দেশবাসীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়—যোগ্যতা, সততা ও পেশাদারিত্বই হবে একজন কর্মকর্তার মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড। যারা ন্যায় ও আইনের পক্ষে অবিচল থাকেন, রাষ্ট্র যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়। কারণ সৎ কর্মকর্তাদের রক্ষা করা মানেই রাষ্ট্রের সততা, জবাবদিহি ও সুশাসনকে রক্ষা করা।








