শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাটকা মাছ না ধরায় দেশে ইলিশ সহজলভ্য হয়েছে; অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২, ১:১০ পিএম
জাটকা মাছ না ধরায় দেশে ইলিশ সহজলভ্য হয়েছে; অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম

মনিরুল ইসলাম মনির : বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধকালীন সময়ে জাটকা, মা ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ না ধরার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেছেন, দেশ মৎস্য সম্পদে সমৃদ্ধ হলে দেশের মানুষও তার সুফল পাবে। জাটকা মাছ না ধরার কারনে এখন দেশে ইলিশ সহজলভ্য হয়েছে। জনগণ সচেতন হলে জাটকা, মা ইলিশসহ সকল মাছই সহজলভ্য হবে এবং দেশীয় আমিষের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানীর করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের আয়োজনে বুধবার (০৯ মার্চ) সকাল ১০টা চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র মাঠে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান-২০২২ উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপুলিশের প্রধান বলেন, জাটকা রক্ষায় দুই মাসের অভয়াশ্রম চলছে। অভিযানে সক্ষমতা বাড়াতে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরণের লজিস্টিক সাপোর্ট নেওয়া হবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, সারা বছরই কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। কিন্ত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কারেন্ট জাল উৎপাদন করে থাকে। নৌ পুলিশের অভিযানে শত শত কোটি টাকার জালও জব্দ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। আমরা স্থায়ীভাবে কারেন্ট জাল বন্ধ করার চেস্টা করছি। এখন থেকে নৌ পুলিশ নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে নদীতে নামবে। যাতে করে দুষ্কৃতকারীদের আটক করতে পারে।

ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে জাটকা ধরা, বেচা-কেনা এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নৌপুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম।

তিনি বলেন, দেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বসাধারণ বিশেষ করে জেলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ইলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী, আড়তদার, বরফকল মালিক, বোট মালিক, দাদনদার এবং ভোক্তাসহ সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ। একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া।

তিনি উপস্থিত সকলকে সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধকালীন সময়ে মাছ না ধরার জন্য এবং জাটকা সংরক্ষন অভিযানসফল করার জন্য সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, আইনের বাইরে গিয়ে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন বা বাল্কহেড চালানো যাবে না। আইনসঙ্গতভাবে যেটুকু বলা হয়েছে সে জায়গায় বালু উত্তোলন করবেন। অবৈধ বাল্কহেড জব্দ করবে নৌ পুলিশ।
নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ৪০ কেজি করে চাল জেলেদের কাছে আমরা পৌঁছে দিচ্ছি । এছাড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জাটকা সংরক্ষণ অভিযান-২০২২ উপলক্ষে মতবিনিমিয় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রমাসক অঞ্জনা খানস মজলিস।

আগের যে কোনো সময়ে চেয়ে এ বছর আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চাঁদপুরের নৌ পুলিশে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, অন্যান্য বছর যেভাবে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম পালিত হয়েছে, এবার তার চেয়ে কঠোরভাবে পালিত হবে।

মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞাকালে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিপণন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জাটকা রক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ১ থেকে দুই বছরের সর্বোচ্চ কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জাটকা সংরক্ষণ অভিযান-২০২২ উপলক্ষে মতবিনিমিয় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম।

মতবিনিময় সভায় চাঁদপুরের নৌ পুলিশ সুপার কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম (পিপিএম ও বিপিএম-বার) ও নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী কায়সারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস, চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, ষাটনল ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদাউস আলম সরকার, বাংলাদেশ জাহাজ ফেডারেশনের সভাপতি সবুজ সিকদার, দৈনিক ইত্তেফাক মতলব উত্তর প্রতিনিধি সাংবাদিক শামসুজ্জামান ডলার, জেলা নৌযান ফেডারেশন সভাপতি জাহাঙ্গীর সরদার, জেলা মৎসজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক দেওয়ান, উপজেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ওমর আলী প্রধান।

পরবর্তীতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জেলে সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে নৌ র‌্যালিতে অংশগ্রহন করেন এবং জনগনের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন এণ্ড অপারেশন) মো. মফিজুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম, নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (দক্ষিণ বিভাগ) মোল্লা মো. নজরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম, মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ একেএম কাউসার’সহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ব্যাক্তিবর্গ ও মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’