শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদি আরবে বিশ্বের ১৩৩টি দেশের কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৬ এম
সৌদি আরবে বিশ্বের ১৩৩টি দেশের কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া।

বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তিনি। তার এ সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ বিভাগে প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কোরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

প্রতিযোগিতার সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের এই তরুণ হাফেজ।

Model Hospital

পাঁচটি পৃথক শাখায় অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান কোরআনের হাফেজ ও কারিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

প্রতিযোগিতা চলাকালে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া বলেন, পবিত্র কোরআনই তাকে একটি ছোট গ্রাম থেকে পবিত্র মক্কা নগরীতে নিয়ে এসেছে। মসজিদুল হারামে এসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগকে তিনি তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও স্মরণীয় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

মক্কার পবিত্র ভূমিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোরআনপ্রেমী তরুণদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের জন্য প্রথম স্থান অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। একজন তরুণ হাফেজের এ সাফল্য দেশের কোরআন শিক্ষা ও হিফজের অঙ্গনেও নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের প্রতিভাবানদের মিলনমেলায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়ার এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন দেশের জন্য এক অনন্য সম্মান। পবিত্র কোরআনকে বুকে ধারণ করে মক্কার পবিত্র ভূমিতে বাংলাদেশের পতাকাকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।

তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয় বরং বাংলাদেশের কোরআনপ্রেমী মানুষ ও মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও আনন্দ ও গৌরবের সংবাদ।

সূত্র : সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।