বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর নাটক জলরুপালী মঞ্চস্থ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
চাঁদপুরে অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর নাটক জলরুপালী মঞ্চস্থ

কবি নজরুল বর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনে ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায়, জসীম মেহেদীর রচনায় ও নির্দেশনায় ” জলরুপালী ” নাটকের ২য় তম মঞ্চায়ন করা হয়।

মঞ্চায়ন শেষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণকারী সকল নাট্য সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ সকল শিল্পীদের মাঝে শুভেচ্ছা স্বারক ক্রেস্ট তুলে দেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এন. এম জামিউল হিকমা ও জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আহবায়ক অ্যাডঃ মুনিরা চৌধুরী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান পরিচালক (অর্থ) সম্পাদক রফিকউল্লাহ সেলিম।

অতিথিগন সংবর্ধিত প্রবীণ নির্দেশক ও নাট্যাভিনেতা মোঃ আক্রাম খান ও মোঃ হানিফ পাটোয়ারী কে সংবর্ধনা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এ সময় সকল নাট্য সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ সকল শিল্পীদের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

Model Hospital
সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের সভাপতি হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী ও সঞ্চালনা করেন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী ও থিয়েটার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এম.আর. ইসলাম বাবু।

অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় “জলরুপালী ” নাটকের রচনায় ও নির্দেশক নাট্যশিল্পী জসীম মেহেদী বলেন, দেশজ নাট্যরিতির আঙিক নিয়ে নিজস্ব সৃজনশীলতার চেষ্টায় সত্যমূলক কাহিনি নিয়ে। নাট্যশিল্পীরা মঞ্চে যা করছে, তা শুধুই কেবল অভিনয়। আসল ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত আমাদের সমাজে। ঘটনার স্থানটি নদীমাতৃক জেলা ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ঘিরে। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ইলিশ মাছ, বসবাসের উপযোগী করতেই সরকার আইন করেছে বছরে ২২ দিন এবং ২ মাস নদীতে ইলিশ মাছ না ধরার জন্য। সেই সময় কর্মহীন জেলে, অসাধু ব্যবসায়ী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশ নিয়ে লেখা সচেতনতা মূলক নাটক ” জলরুপালী “।

নাটকের গায়েন চরিত্রে : ফাতেমাতুজ জোহরা ও হৃদয় কর্মকার।

কোরাস : প্রান্তিক দাস, শাহরিয়ার আবির, রোহান পাটওয়ারী, মহিন উদ্দিন, হাসিবুর রহমান, সাকিবুর রহমান রাফি, জিহাদ চৌধুরী , শুভ চন্দ্র, মোঃ আল রাফি, মোঃ আফনান আলিফ, রাবেয়া আক্তার, মহিমা আক্তার, রাফিয়া আক্তার, হাজেরা আক্তার।

অভিনয়ে : শহীদ পাটোয়ারী, আয়শা সিদ্দিকী আভা, মোঃ আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী, সীমা ইসলাম, জসীম মেহেদী, আখলাকুল ইসলাম লাকু , মানিক দাস, কামরুল ইসলাম, দীপক ভট্টাচার্য, শরীফুল ইসলাম, দুলাল সরকার, নজরুল ইসলাম, প্রান্তিক দাস, শাহরিয়ার আবির, হাসিবুর রহমান,জিহাদ চৌধুরী, মোঃ আল রাফি, মোঃ আফনান আলিফ।

মিউজিক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে : কণ্ঠশিল্পী মৃণাল সরকার, কাজী কাবীসা, জান্নাত, কানিজ ফাতেমা, সানজিদা আলম সান্জু, বীরেন সাহা, তবলা শিল্পী খোকন দাস ও শুভ।
মঞ্চ ব্যবস্থাপক : হানিফ পাটোয়ারী, জয়রাম রায়, মোবারক হোসেন শিকদার, ফয়সাল ফরাজী, সাবিত্রী রানী ঘোষ,অ্যাডভোকেট ইয়াসিন ইকরাম চৌধুরী, শাওন পাটওয়ারী ও এস এম সোহেল।

মঞ্চ পরিকল্পনা : মোঃ আলমগীর হোসেন পাটওয়ারী ও মানিক দাস, আলো পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ : গোবিন্দ মন্ডল (অতিথি) মামুন হোসেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।