মা-ছেলের ভালোবাসা ও পারিবারিক টানাপোড়েনের গল্পে চলচ্চিত্রে অভিষেক ইয়াকুব সরকারের
মা ও ছেলের গভীর ভালোবাসা, আবেগ, পারিবারিক বন্ধন এবং সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে নতুন চলচ্চিত্র ‘খোকন’। পারিবারিক ও সামাজিক ঘরানার এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান একে ফিল্মস। চলচ্চিত্রটির কাহিনি ও নির্মাণে থাকছেন মো. আবুল কাশেম মন্ডল।

খোকন’ চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে মা ও ছেলের হৃদয়ছোঁয়া সম্পর্ককে ঘিরে। ভালোবাসা, মায়া-মমতা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সমাজের নানা বাস্তবতা গল্পের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে। নির্মাতার প্রত্যাশা, আবেগ ও পারিবারিক মূল্যবোধনির্ভর এই গল্প দর্শকদের হৃদয়ে নাড়া দেবে।

চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন শেখ রিফাত ও প্রিয়া অনন্যা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে বরদা মিঠু, রেবেকা, দুলারি, রকি, বান্টি, রেশমা, দিলারা জামান, সরল হাসমত, তানিশা, কানন এবং নবাগত ইয়াকুব আলী সরকারসহ আরও অনেক শিল্পীকে।

চলচ্চিত্রে অভিষেক ইয়াকুব আলী সরকারের

‘খোকন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে শেরপুরের তরুণ ইয়াকুব আলী সরকারের। এর আগে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের একাধিক প্রস্তাব পেলেও ব্যস্ততার কারণে কাজ করা হয়ে ওঠেনি তার। শেষ পর্যন্ত সময় চলে যাচ্ছে—এমন উপলব্ধি থেকেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অভিষেক চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইয়াকুব আলী সরকার বলেন, বিগত সময়ে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বেশ কিছু অফার পেয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের অভাবে সেগুলোতে কাজ করা হয়নি। পরে মনে হলো, সময় তো চলেই যাচ্ছে, ব্যস্ততাও শেষ হচ্ছে না। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং অভিনয় শুরু করলাম। নতুন কাজ করছি, তাই আনন্দটাও একটু বেশি। বেশ ভালো লাগা কাজ করছে।
খোকন’ চলচ্চিত্রে সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইয়াকুব আরও বলেন, এই চলচ্চিত্রে রেবেকা ভাবি, দুলারি আন্টি, সরল হাসমত ভাই, শেখ রিফাত ও প্রিয়া অনন্যার মতো জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ শিল্পীরা অভিনয় করছেন। তাদের সঙ্গে একই চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য অনেক আনন্দের এবং একই সঙ্গে শেখারও বড় একটি সুযোগ।
নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চরিত্রের বিষয়টি নিয়ে আমি মনে করি, চলচ্চিত্রে কোনো চরিত্রই ছোট নয়। প্রতিটি চরিত্রই গল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘খোকন’-এ শুরুতেই নায়কের বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করছি। চরিত্রটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমার একটাই প্রত্যাশা—দর্শকদের সামান্যতম ভালো লাগাও যদি অর্জন করতে পারি, তাহলেই নিজেকে সার্থক মনে করব।”
তিনি আরও বলেন, “সিনিয়র শিল্পীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করছি। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি একটি ভালো টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটাও আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, ‘খোকন’ দর্শকদের ভালো লাগবে এবং এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমার অভিনয়যাত্রাটাও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে।
গল্পে থাকছে পুলিশের বিশেষ চরিত্র
‘খোকন’ চলচ্চিত্রের গল্পে পুলিশের একটি বিশেষ চরিত্রও রাখা হয়েছে। চরিত্রটি কেবল আলাদা কোনো সংযোজন নয়, বরং গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে পর্দায় উঠে আসবে। পারিবারিক সম্পর্কের আবেগের পাশাপাশি সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক ও ঘটনাপ্রবাহে এই চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্মাতার পরিকল্পনা অনুযায়ী, মা-ছেলের আবেগঘন সম্পর্কের পাশাপাশি পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের জীবনের নানা চেনা-অচেনা সংকটকে গল্পে তুলে ধরা হবে। ফলে ‘খোকন’ শুধু একটি পারিবারিক গল্প নয়, বরং দর্শকদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার মতো একটি চলচ্চিত্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্মাতা ও শিল্পীদের প্রত্যাশা, গল্পের আবেগ, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং শিল্পীদের অভিনয়ের সমন্বয়ে ‘খোকন’ দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। বিশেষ করে মা ও সন্তানের সম্পর্কের আবেগঘন উপস্থাপন চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তারা।








