বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২৬ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো চাঁদপুরের সেলিম খান ও তার ছেলের লা’শ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পিএম
২৬ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো চাঁদপুরের সেলিম খান ও তার ছেলের লা’শ

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় জনতার পিটুনিতে মারা যাওয়া চাঁদপুরের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দাফনের ২৬ মাস পর আজ বুধবার দুপুরে তাঁদের লাশ উত্তোলন করা হয়।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে নিজ বাড়ির কবরস্থান থেকে প্রথমে শান্ত খানের লাশ কবর থেকে তোলা হয়। এর কিছুক্ষণ পর সেলিম খানের লাশ তোলা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম খান সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা শাপলা মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী ছিলেন সেলিম। তাঁর ছেলে শান্ত খান একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

বিগত সরকারের আমলে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে শত শত ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন সেলিম খান। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ ঘিরে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছিল। দেশজুড়ে তখন তিনি ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা ছাড়া রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা চলমান ছিল। এসব ঘটনায় তিনি জেলও খেটেছেন।

Model Hospital

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান। পরে জনতার পিটুনিতে তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সম্প্রতি আদালত কবর থেকে তাঁদের লাশ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

আওয়ামী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন ফরিদগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ এম
আওয়ামী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন ফরিদগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম

শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে চিরতরে অবসর গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মুঠোফোনে বিশেষ তিনি রাজনৈতি থেকে নিজের সরে দাঁড়ানোর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।

বার্তায় চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমি আমার নিজের শারীরিক ও মানসিক সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আজকের পর থেকে দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সাথেই আমার আর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক কিংবা সংশ্লিষ্টতা নেই।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শাহ আলম শেখ। ওই নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থীকে ভোটে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার অপরাধে তৎকালে দল থেকে তাঁকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকে তিনি দলীয় কোনো পদ-পদবিতে আর ফিরে আসেননি।

Model Hospital

অবশেষে বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) রাতে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার এই ব্যক্তিগত ঘোষণা দেন তিনি।