শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মে, ২০২২, ১:৪০ পিএম
কচুয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার : কচুয়ার কাদলা ইউপি চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরে ই আলম (রিহাত)।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আমার এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জেরে আমার বিরুদ্ধে গুলবাহার গ্রামের বেপারী বাড়ির জনৈক ইরানী বেগমের বসত ঘরে ভাংচুর, মালামাল লুট, শ্লিলতাহানির অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাঁদপুরের একটি সুনামধন্য পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করেছে একটি কুচক্রী মহল।

আমি ওই সংবাদ ও কাল্পনিক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইউপি নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে জয় লাভ করায় একটি কুচক্রী মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইমেজ ক্ষুন্ন করার লক্ষে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে আসছে। ঈর্ষান্বিত মহলটি এলাকার মাদকসেবী ও মাদকব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে লিপ্ত বখাটে যুবকদের হাত করে এ মিথ্যা সংবাদ প্রচারসহ আমার সমাজের কল্যানে নেওয়া বিভিন্ন অভিযানে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরো দাবী করেন, বেপারী বাড়িতে মারামারির ঘটনার সময় আমি প¦ার্শবর্তী মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব বাজার এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম। মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আমাকে ফোন দেন।

Model Hospital

ওসি সাহেবের ফোন পেয়ে আমি মতলব থেকে ঘটনাস্থলে আসি। ওসি সাহেবের উপস্থিতিতে ইরানী বেগমের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ উক্ত ঘটনা তদন্ত করে ইরানী বেগমকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মূলত ইরানী বেগমের লোকজনরা আমার চাচাতো ভাইসহ ১০-১২জনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। আহতরা উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করে। উক্ত ঘটনার দুদিন পর আমার ইউনিয়ন পরিষদে একটি কুচক্রী মহল হামলা চালায়। আমার ধারনা ইরানী বেগমের লোকজন এই হামলার সাথে জড়িত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গন্যমান্য নেতৃবৃন্দ এবং কচুয়া প্রেসক্লাবের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’