শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর পুরান বাজারে ২০ আড়তে ৩৮ হাজার বস্তা চাল মজুদ, জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুন, ২০২২, ৩:০২ পিএম
চাঁদপুর পুরান বাজারে ২০ আড়তে ৩৮ হাজার বস্তা চাল মজুদ, জরিমানা
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর পুরান বাজারে চাউলের উপর বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সেই সাথে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের তথ্যমতে পুরান বাজারের ২০টি আড়তে প্রায় ৩৮ হাজার ৪৩০ বস্তা চাল মজুদ রয়েছে বলে জানা যায়।
ভোক্তা অধিদপ্তর এর প্রধান কার্যালয়ের পহেলা জুনের নির্দেশনা মোতাবেক চাঁদপুর পুরান বাজারের চাউলের মিল, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে। বুধবার (১ জুন)  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতায় চাঁদপুর পুরান বাজার এলাকায় চালের পাইকারি দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন। অভিযানে লোকমান হোসেন বেপারীকে মূল্য তালিকা না থাকার অপরাধে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
পুরান বাজারের ২০টি প্রতিষ্ঠানে ৩৮ হাজার ৪৩০ বস্তা চালের মধ্যে ইউনাইটেড ট্রেডার্সে ১ হাজার ৮শ’ বস্তা, রায় ট্রেডার্সে ৪৯৪ বস্তা, মেসার্স রপরপ ট্রেডার্সে ৩ হাজার ৫৮০ বস্তা, কাশিফা এন্টারপ্রাইজে ১ হাজার ২৫০ বস্তা, ইসলামিয়া বাণিজ্যালয়ে ৮২০ বস্তা, আমানত ট্রেডার্সে ৪৩৮ বস্তা, মেসার্স খাদ্য ভান্ডারে ২ হাজার ৯৫৪ বস্তা, মেসার্স গুরুদেব ভান্ডারে ৪২১ বস্তা, মেসার্স জনতা ট্রেডার্সে ৭৬৪ বস্তা, মেসার্স মক্কা ট্রেডার্সে ১ হাজার ৫৯৫ বস্তা, মেসার্স কাউচার ট্রেডাসে ২ হাজার ১৩৪ বস্তা, মেসার্স রাজ লক্ষ্মী ভান্ডারে ২ হাজার ৯৪৮ বস্তা, মেসার্স মদিনা ট্রেডার্সে ২ হাজার ৪৭৭ বস্তা, মেসার্স মিনারা ট্রেডার্সে ৯২১ বস্তা, মেসার্স নিউ পদ্মা ভান্ডারে ১ হাজার ২৫০ বস্তা, আরিসা ট্রেডার্সে ১ হাজার ৪৭৫ বস্তা, ভস্মী ট্রেডার্সে ৫৫৭ বস্তা, মেসার্স কান ট্রেডার্সে ২ হাজার ২৭৩ বস্তা, পরেশ টেডার্সে ৭ হাজার বস্তা ও মেসার্স মমিন এন্ড ব্রাদার্সে ৩ হাজার ২৭৯ বস্তা চাল মজুদ রয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন বলেন, পুরান বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এবং চেম্বার অব কমার্সের সদস্যগণসহ চাউলের মজুদ ও বিপণন বিষয়ক একটি সভা করা হয়েছে। সভাতে ব্যবসায়ীদেরকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক চাল ক্রয়-বিক্রয় করতে বলা হয়েছে এবং কোন প্রকার অনিয়ম যেন না করা হয় সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক করা হয়েছে।
এ সময় অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেন পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি চৌকস টিম। জনস্বার্থে এরূপ অভিযান চলমান থাকবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’