সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুতে প্রভাষক তাজুলের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২, ১২:১২ পিএম
বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুতে প্রভাষক তাজুলের শোক
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মকবুল আহমেদ আখন্দ (৮০) রবিবার (৩ জুলাই) বিকাল ৫টার সময় বার্ধক্যজনিত কারনে ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করিয়াছেন। ইন্নালিল্লাহি…….রাজিউন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক মোঃ তাজুল ইসলাম হাওলাদার। শোক বার্তায় তিনি বলেন, মরহুম আলহাজ্ব মকবুল আহমেদ আখন্দের মৃত্যুতে কলেজ পরিবার মর্মাহত এবং গভীরভাবে শোকাহত। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, কর্তব্য পরায়ন, সততা ও একাগ্রতার সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্বল্পভাষী এবং সদালাপী ছিলেন। আমি বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
জানা যায়, মকবুল আহমেদ আখন্দ উপজেলার ১নং রাজারগাঁও উত্তর ইউনিয়নের রামরা গ্রামের আখন বাড়ির সন্তান। তিনি বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হাজীগঞ্জের বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, বাকিলা ইউনিয়নের শ্রীপুর মকবুল আহমেদ ইসমাইলিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মেনাপুর পীর বাদশা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের প্রতিষ্ঠাতা। এবং নিজ বাড়ির সামনে একটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তিনি। আলহাজ্ব মকবুল আহমেদ আখন্দ অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ড তথা মতিঝিল এলাকা থেকে তিনবার কমিশনার পদে বিজয়ী হয়েছিলেন।
আলহাজ্ব মকবুল আহমেদ মৃত্যুকালে তিন সন্তানসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন এবং সোমবার তার গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা যায়।
তার মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠিত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মরহুের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।