রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘বিজয়ী’ মেহেদী রাঙা উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০২২, ৪:২৯ পিএম
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘বিজয়ী’ মেহেদী রাঙা উৎসব
স্টাফ রিপোর্টার : একদিন পর ঈদুল আযহা। ঈদকে কেন্দ্র করে শিশুদের আগ্রহের শেষ নেই। অভিভাবকরাও সাধ্যমত চেষ্টা করেন শিশুদের সমস্ত বায়না মেটাতে। তবে বঞ্চিত থেকে যায় অসহায় পথশিশু ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা। তাদের মন ঈদের কোনো রঙেই ঠিক মতো রাঙে না।
এবার সুবিধা বঞ্চিত এই শিশুদের ঈদের রঙে রাঙাতে উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুরের প্রথম নারী সংগঠন “বিজয়ী”।  শিশুদের নিয়ে মেহেদী রাঙা উৎসব পালন করেছেন তারা।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিল চাঁদপুরের সুনামধন্য সংগঠন তারুণ্যের অগ্রদূত।
অদ্য ৮ ই জুলাই শুক্রবার চাঁদপুরের বড় স্টেশনের রেলওয়ে স্কেভেঞ্জারস সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয়ে অর্ধশত শিশুদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।
বিজয়ী এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান  বলেন, ‘আগামী রবিবার ঈদুল আযহা। দিনটি সবার জন্য আনন্দের। আমরা চেষ্টা করছি ঈদের আনন্দ যেন গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই শিশুদের হাতে মেহেদী রাঙিয়ে দিলাম। প্রতি বছর বাড়িতে ছোট ভাই বোনদের হাতে মেহেদী রাঙিয়ে দিই। তবে এবার সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের হাতে মেহেদী রাঙিয়ে দিয়ে অনেক ভাল লাগছে। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা  জানাই আজকের অনুষ্ঠানের মধ্যমনি মাহামুদুল হাসান নানা ভাই, এডঃ আবুল কালাম সরকার এবং তারুণ্যের অগ্রদূত সংগঠনের সকল সদস্যদের। বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই বিজয়ীর  সকল সদস্যদের।
মেহেদী  উৎসবের সমন্বয়ক  ও তারুণ্যের অগ্রদূত সংগঠনের সভাপতি ইমরান বলেন, ‘ঈদ সবার জন্য আনন্দের দিন।  সবাই মিলে নিজেদের হাতে মেহেদী  দেওয়ার পাশাপাশি গরিব, অসহায়, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে মেহেদী রাঙা উৎসব পালন করব। সেই লক্ষ্য নারী সংগঠন বিজয়ীর আয়োজনে এবং আমাদের সংগঠনের সকল সদস্যরা সার্বিক সহায়তায় আজকের এই মেহেদী রাঙ্গা উৎসব সফল ভাবে সম্পন্ন করে শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়েছি।
মেহেদী উৎসবের প্রধান অতিথি মাহামুদুর রহমান নানা ভাই বলেন, সুবিধাবঞ্চিত  শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও আনন্দিত। সমাজের সবাই যদি এসব শিশুদের ছোটো ছোটো আনন্দের ভাগিদার হয়ে যায়, তাহলে তাদের মলিন মুখেও নির্মল হাসি ফুটে উঠবে।’ তিনি বিজয়ী এবং তারুণ্যের অগ্রদূত সংগঠনের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন ইনশাআল্লাহ সবার সহযোগিতায় প্রতি বছর এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার ব্যবস্থা করবো।
এ সময় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের মেহেদী উৎসব এর রূপকার এডঃ আবুল কালাম সরকার, চাঁদপুর অনলাইন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আশিক খান, তারুণ্যের অগ্রদূত সংগঠন এর সাধারন সম্পাদক । শিশুদের জন্য মেহেদী, খাবার ও শিক্ষা সামগ্রী স্পন্সর করেন সুমাইয়া গাজী, আসফিয়া জাহান, পুষ্পিতা পুষ্প, খান’স প্রডাক্টস সহ বিজয়ী ও তারুণ্যের অগ্রদূত সংগঠনের সদস্যগন।
শিশুদের মেহেদী দিয়ে হাত রাঙ্গানো শেষে সবার হাতে বিজয়ী এর পক্ষ থেকে নানা রকম খাবার ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।