শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ১০ বছরের সংসার রেখে সর্বস্ব; নিয়ে প্রবাসী নওমুসলিমের স্ত্রী উধাও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০২২, ৬:২৮ পিএম
মতলব উত্তরে ১০ বছরের সংসার রেখে সর্বস্ব; নিয়ে প্রবাসী নওমুসলিমের স্ত্রী উধাও

মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা গ্রামের এক প্রবাসী নওমুসলিমের স্ত্রী ১০ বছরের চলমান সংসার রেখে টাকা, স্বর্ণালংকার ও সকল জিনিসপত্র নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। গত ২০ জুলাই থেকে তার সন্ধান করেও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তার স্বামী সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহমান সকল আত্মীয় স্বজনের বাড়ি খোঁজ করেও পাননি। তবে ওই গ্রামের সোহেল সরকার নামে এক ব্যক্তির যোগসাজসে এ অঘটন ঘটেছে বলে আব্দুর রহমানের ধারণা।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে আব্দুর রহমান জানান, তার বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা গ্রামে, তিনি হিন্দু ছিলেন। তিনি ২০০৩ সালে সৌদি আরব যান। সৌদিতে গিয়ে ২০০৪ সালে তিনি মুসলমান ধর্ম গ্রহন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা গ্রামের জয়নাল আবেদীন মল্লিকের মেয়ে শান্তা আক্তারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে মো. আব্দুল্লাহ নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ইতোমধ্যে সে পবিত্র কোরআনে হাফেজ হয়েছে। বিয়ের পর থেকে তার শ্বশুর শ্বাশুরি ও পরিবারের সকল খরচ আব্দুর রহমান বহন করতেন।

মুসলমান হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি পূর্বের পরিবারে কোন টাকা পয়সা দেননি। বিদেশে থেকে যত টাকা পয়সা রোজগার করেছেন সব টাকা তার স্ত্রী শাস্তার একাউন্টেই পাঠাতেন। সর্বশেষ গত ২৪ মে আব্দুর রহমান সৌদি থেকে একেবারে চলে দেশে চলে আসেন। দেশে ফেরার পর তাদের সংসার বেশ ভালোই চলছিল। গত ১৯ জুলাই আব্দুর রহমান চিকিৎসা নিতে ঢাকা যান, পরদিন ২০ জুলাই বাড়িতে এসে দেখেন তাদের ঘর তালা। স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুড় শ্বাশুড়ি কেউই নেই। ঘর তালাবন্ধ করে সব উধাও হয়ে গেছে। সব জায়গায় খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি।

আব্দুর রহমান বলেন, আমি বিদেশ থেকে যত টাকা রোজগার করেছি বিশ্বাস করে সব টাকা শাস্তার কাছেই পাঠিয়েছি। কারণ আমি হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়ার কারণে আমার স্ত্রী সন্তানই আমার সবচেয়ে মূল্যবান। সর্বশেষ তার একাউন্ডে ৮ লাখ টাকা ছিল। আর স্বণাংলকার যা যা ছিল সবকিছু নিয়ে চলে গেছে। পরে তাদের নিকটাত্মীয় সোহেল সরকারের কাছে গিয়ে জানতে পারি সে ১৩ জুলাই আমাকে তালাক দিয়েছে। কিন্তু কেন তালাক দিয়েছে তা জানতে পারি নাই। তাছাড়া ১৯ তারিখ পর্যন্ত আমরা একই সংসারে ছিলাম।

Model Hospital

সোহেল সরকারের কাছে আমি এক লাখ টাকা পাই। ওই টাকা চাইতে গেলে তিনি আমাকে অনেক মারধর করেছেন। এই সোহেল সরকারের কথা মত আমার শ্বাশুরি চলে। সে বিভিন্ন পায়তারা করে আমার সংসারটা ধ্বংস করে দিল।

কলাকান্দা গ্রামের আবুল বাশার দেওয়ান, রিপন, আলমগীর হোসেন, মনির ও শাহজালাল সহ অনেক নারী পুরুষ বলেন, আব্দুর রহমান অনেক ভাল লোক। তিনি হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছেন। তার যত টাকা পয়সা আছে শাস্তার পরিবারের কাছে পাঠাতো। তাদের পরিবারের যত খরচ সব আব্দুর রহমান বহন করতো। কিন্তু তার উপর এমন অবিচার করে সবকিছু নিয়ে পালিয়ে গেছে তারা। পাশের বাড়ির সোহেল সরকার কুপরামর্শ দিয়ে তাদের সংসারটা নস্ট করে দিয়েছে।

শাস্তার ভাই মোঃ আসলাম বলেন, আমাকে অনেক আগেই আমার পিতা মাতা সংসার থেকে আলাদা করে দিয়েছে। আমার সংসার নিয়ে আমি আলাদা থাকি। তবে আমার জানামতে আমার দুলাভাই আব্দুর রহমান তাদের কাছে সব টাকা পাঠিয়ে এবং তাদের পরিবারের সব খরচ বহন করতো। আমার ধারণা সোহেল সরকারের বুদ্ধিতে সংসারটা নস্ট করে পালিয়ে গেছে।

এদিকে সোহেল সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। সোহেল আমার কাছে টাকা চাইতে আসলে তাকে বলেছি তোর বউয়ের কাছে টাকা দিয়ে দিছি। তারপর সে বিশ্বাস না করায় তাকে একটা থাপ্পর দিয়েছি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital