শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
সাত বছরের সংসার। একসঙ্গে পথচলার এই দীর্ঘ সময়ে সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে সেই সংসারেই নেমে আসে ভাঙনের সুর। বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্থানীয় সালিসে স্বামীর পা ধরে কান্নাকাটি করে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানান স্ত্রী জান্নাতুল ইতি আক্তার। তবে তাঁর কান্না ও অনুরোধেও মন গলেনি স্বামী রনি খানের। শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় সাত বছরের দাম্পত্য জীবন।

গতকাল শনিবার রাতে বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিসে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজগর আলীও উপস্থিত ছিলেন।

ইতির ভাই জুলহাস সরদার জানান, সালিসে তাঁর বোন বারবার স্বামীকে সংসার না ভাঙার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে রনির পা ধরে কান্নাকাটি করেন তিনি। উপস্থিত ব্যক্তিরাও রনিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রীকে তালাক দেন তিনি।

ইতি ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ি থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করেছিলেন ইতি।

ইতির পরিবারের দাবি, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার মাধ্যমে ইতির সন্তান ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) পদ্ধতিতে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। মেয়ের চিকিৎসার জন্য বাবা নিজের শখের জমি বিক্রি করে ওই টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও রনির সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে হিজলার মাসকাটা গ্রামের সিকিম আলী সরদারের মেয়ে ইতির সঙ্গে মেহেন্দিগঞ্জের বাবনেরচর গ্রামের কাজল খানের ছেলে রনির বিয়ে হয়। রনি পোশাক কারখানার শ্রমিক। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে নরসিংদীর মাধবদী থানার চৌদ্দ পাইকা এলাকায় থাকেন।
এ বিষয়ে রনি খান জানান, বিয়ের পর সাত বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, তাঁর স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। এ কারণে তিনি আর সংসার করতে চান না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা ও আইভিএফ পদ্ধতির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ ব্যাপারে হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আজগর আলী বলেন, ‘ইতি তাঁর স্বামীর সঙ্গে সংসার করার অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সন্তান না হওয়ার অজুহাতে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়েছে। সালিসে সমাধান না হওয়ায় ইতি ও তাঁর পরিবারকে বরিশাল পারিবারিক আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’