শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হাজীগঞ্জে বিউটি পার্লার মালিক পপি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ পিএম
ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হাজীগঞ্জে বিউটি পার্লার মালিক পপি গ্রেপ্তার

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে এক বিউটি পার্লারের মালিককে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে হাজীগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া নারী হলেন আরিফা রহমান পপি আক্তার। তিনি হাজীগঞ্জ রয়েল মার্কেটের ‘দুলহান বিউটি পার্লার’-এর মালিক।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আবু সাঈদ সুমনকে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন পপি আক্তার। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও ইতালি পাঠানো কিংবা টাকা ফেরত না পাওয়ায় প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগী। পরে দায়ের করা প্রতারণা মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে হাজীগঞ্জ থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

Model Hospital

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব শর্মা জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পপি আক্তার আরও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু নাছের শাকিল।
সভায় হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথকীকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ ও অপসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডাস্টবিনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে চিকিৎসা বর্জ্য সাধারণ বর্জ্য থেকে আলাদা করা, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ এবং নিরাপদে অপসারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিনের নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিটি টয়লেট ব্যবহার উপযোগী করা, হাসপাতাল আঙিনার ঘাস ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন ও হকারদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওষুধের সংকট নিরসনে রিকুইজিশন পাঠানো, অকেজো আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন সচল করার উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯০-এর দশকে ৩১ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি পরবর্তীতে ৫১ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট এখনো কাটেনি। দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য সংরক্ষণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থায়ও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, সুই, রক্তমাখা তুলা ও স্যালাইনের বিভিন্ন উপকরণ নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।
এদিকে বর্তমান সরকার সম্প্রতি ৫১ শয্যার  হাসপাতালটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নতি করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী,স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. ফায়দুল্লাহ মিয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ প্রতিনিধি জসীমউদ্দীন, পৌর প্রশাসকের প্রতিনিধি ও পৌরসভার প্রধান সহকারী মো. নজরুল ইসলাম, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।হাসপাতালে পক্ষে
নার্সিং সুপারভাইজার সুভদ্রা রানী দেবনাথ, স্টোরকিপার ও বহির্বিভাগ ইনচার্জ মো. মোস্তফা, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. ইমাম হোসেন, জরুরি বিভাগ ইনচার্জ ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহিন হোসেন,  এবং জুনিয়র মেকানিক আবুল বাসার খান।সভায় হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।