শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

ত্যাগী-যোগ্যরা নেতৃত্ব পেলে দলে শৃঙ্খলা ফিরবে; তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২, ১২:৫৪ পিএম
ত্যাগী-যোগ্যরা নেতৃত্ব পেলে দলে শৃঙ্খলা ফিরবে; তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া

এস এস ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনসহ রাজনীতির নানান বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আজ রয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আ. লীগের সভাপতি পদ প্রার্থী তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়াকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

৮০-এর দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আলোচিত যে ক’জন ছাত্রনেতা ছিলেন তার মধ্যে তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া সর্বাধিক আলোচিত। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের সাহসী এ ছাত্রনেতা ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থীতাসহ রাজনীতির নানান বিষয়ে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে।

ফরিদগঞ্জে দলীয় কমকান্ডে মাঝখানের কয়েক বছর অনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর ১৯৮৭ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজধানীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। সেখানেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৭-৮৮ সালে হিরু-নির্মল কমিটিতে সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করি।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রথম কমিটিতে (হাজী মকবুল-বাহাউদ্দিন নাসিম) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ছিলাম। শিক্ষাজীবন শেষে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ঠিকাদারি ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ি। পাশাপাশি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করি। আমি কখনোই আ. লীগের বাইরে ছিলাম না। সব সময় রাজধানী ও ফরিদগঞ্জে আ. লীগের পাশে থেকে সহযোগীতার চেষ্টা করেছি।

Model Hospital

সহযোগীতার একটি ছোট্ট পরিসংখ্যান দিচ্ছি। শুধুমাত্র করোনা প্রার্দুভাবের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফরিদগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে গরীব-অসহায় মানুষের মাঝে ২৭ লাখ টাকার ত্রাণ সহযোগীতা বিতরণ করেছি। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ফান্ডেও ১ লাখ টাকা দিয়েছি। রাজনৈতিক ব্যানারে হোক অরাজনৈতিক ব্যানারে হোক, আওয়ামী লীগের প্রতিটা প্রয়োজনে আমি হাজির ছিলাম। দলের যদি উপকার করতে চান সেটা ব্যানার দিয়েও করতে পারেন, ব্যানার ছাড়াও করতে পারেন।

সম্প্রতি চাঁদপুরে ফরিদগঞ্জের আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বৈঠকের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আসলে ফরিদগঞ্জের আওয়ামী লীগ জগাখিচড়ি হয়ে আছে। এখানে দলে কোনো শৃঙ্খলা-নিয়ন্ত্রন নাই। যোগ্য নেতৃত্বের তীব্র সংকট রয়েছে। নেতাদের উপরও কর্মীদের আস্থা নাই, কর্মীদের উপর নেতাদের আস্থা নাই। জেলা আওয়ামী লীগ চাচ্ছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটি আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির চেয়ে সবাইকে একজায়গায় নিয়ে আসা গেলে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত থাকবে। জেলা আওয়ামী লীগ হয়তো চিন্তা করছে সক্রিয় তিন গ্রুপের তিনজন নেতাকে এক জায়গায় নিয়ে আসি। তাহলে আওয়ামী লীগটা সুসংগঠিত থাকবে। তবে ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের সুংসগঠিত হওয়ার মত কোনো লক্ষণ আমি দেখছিনা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজপথের কর্মসূচি বিষয়ে তিনি বলেন, আমি রাজপথের কর্মী। একসময় রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। কিভাবে রাজপথে বিরোধী দলকে মোকাবেলা করা যায় এটা আমার জানা আছে।

ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান, দলের প্রতি যাদের ত্যাগ, শ্রম, ঘামের পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা আছে তাকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দিন। দেখবেন দলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। দুঃসময়ে রাজপথে বিরোধীদলকে মোকাবিলা করা কঠিন কোনো বিষয় নয়।

জানা যায়, ১৯৮৩ সালে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়া অবস্থায় ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন তোফায়েল আহম্মেদ ভুঁইয়া। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৬ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৮৫-৮৮ সাল পর্যন্ত চঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের (বিল্লাল-নুরুজ্জামান) কমিটিতে সিনিয়র সদস্য ছিলেন। ১৯৮৩ থেকে ৮৬ সাল পর্যন্ত স্বৈারাচার বিরোধী আন্দোলনে থানা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন তোফায়েল।

এছাড়াও বর্তমানে রাজধানী ও নিজ জন্মস্থান ফরিদগঞ্জে বেশ কিছু সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়া গুণিজন স্মৃতি সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, রাজধানীর দক্ষিণ বিশিল সাদা মাজার মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ফরিদগঞ্জ ১৪নং দক্ষিণ ইউনিয়নে কালির বাজার কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা, গাব্দেরগাঁও মরহুম সালামত উল্যাহ ভূঁইয়া এতিমখানা ও ১৫নং রুপসা উত্তর ইউনিয়নে ফোরকানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

শাহমাহমুদপুরে বিএনপির সভাপতি থেকে স্বপন মাহমুদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
শাহমাহমুদপুরে বিএনপির সভাপতি থেকে স্বপন মাহমুদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদের পদত্যাগকে ঘিরে ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মতবিনিময় সভা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিয়নের মান্দারী তাজ সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিজির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জানানো হয়, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদককে দলীয় পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে হবে। এ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদের পদত্যাগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, দলীয় ঐক্য ও আগামী দিনের করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। এ সময় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি তারা বলেন, বিগত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বপন মাহমুদ টানা দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তার রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, তাই এবারও তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় সমর্থন দিতে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করলে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে এবারও বিজয় নিশ্চিত করার আশা ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘদিনের সহকর্মী শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মাহমুদের পদত্যাগের বিষয়টি সহজে মানিয়ে না নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নাহিদ খান, সাবেক সহ সভাপতি কবির হোসেন রনি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল দেওয়ান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক কবিরাজ, সমাজসেবক জহিরুল হক লালু মাষ্টার প্রমূখ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে মতামত ব্যক্ত করেন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কামাল হাওলাদার, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহবুব বেপারী, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম পাটওয়ারী, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর খান, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মহসিন তপদার, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাজী, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আঃ সাত্তার বেপারী, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজ খান, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফ তালুকদার, সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল সোহেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশেক এলাহী, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আলমগীর পাটওয়ারী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরে দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত ও উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সভাপতির পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করেন বিভিন্ন মামলা হামলার শিকার ও কারানির্যাতিত জননন্দিত নেতা স্বপন মাহমুদ। এবং এদিন রাতেই চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির কাছে তার পদত্যাগ পত্র জমা দেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের উল্লেখযোগ্য কিছু রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কথা সকলের কাছে স্মৃতিচারণ করেন। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, তাঁতীদল, ওলামাদলের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল পাটওয়ারী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শাহীন হাওলাদার, সদস্য আবুল বাশার, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল খান, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব গাজী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মাহমুদ সেলিম, যুবদল নেতা শওকত কারী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক গাজী নূর আলম, যুগ্ম আহবায়ক জুলহাস পাটওয়ারী, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মিজি, ছাত্রদল নেতা সজিব পাটওয়ারী, ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী পারুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রুমা বেগম, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক সার্ভেয়ার আব্দুল হামিদ সহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।