বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

৪৩ বছর পর সম্পত্তি ফিরে পেলেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২:২৫ পিএম
৪৩ বছর পর সম্পত্তি ফিরে পেলেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

মতলব উত্তর ব্যুরো: মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর গ্রামে দীর্ঘ ৪৩ বছর পর কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ফিরে পেলেন এক মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

জানা যায়, স্থানীয় কিছুু কুচক্রী মহল দীর্ঘ ৪৩ বছর আগে ষড়যন্ত্র করে মালিকানা জমি খাস খতিয়ান দেখিয়ে অবৈধভাবে লিজ নিয়ে নেয়। এরপর থেকে তারা বিভিন্ন জনের কাছে বন্ধকী রেখে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। আপিল করার পর ১৯৯৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষে আদালত রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায় পাওয়ার পরও ওই মহলের নানান ষড়যন্ত্রের কারণে জমি দখলে যেতে পারেনি জমির প্রকৃত মালিক মৃত সেকান্দর আহমেদ মোল্লার ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ, তসলিম আহমেদ, জালাল আহমেদ ও সালেহ আহমেদের পরিবার।

স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি চাইলেই তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দখলে নিতে পারতো। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার না করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দীর্ঘ ৪৩ বছর অপেক্ষা করেছেন। প্রথম থেকেই তারা জমির প্রকৃত মালিক ছিলো।

ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. রেজাউল করিম জানান, এই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝামেলা চলে আসছিলো। অবশেষে সকল সমস্যার অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী আমরা জমির প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেই।

Model Hospital

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য. মো. জিলানী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

পৈতৃক সম্পত্তি দখলে পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি জানায়, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের প্রথম থেকেই বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস, ভরসা ও আস্থা ছিলো। তারই প্রতিফলন হিসেবে দীর্ঘ ৪৩ বছর পরে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত ও সত্যের পক্ষে থাকায় আমরা আমাদের পৈতৃক ২ একর ৬৩ শতাংশ জমি পুনরায় আমাদের করে পেয়েছি। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

২ একর ৬৩ শতাংশ জমিতে যারা বন্ধকী নিয়ে নানান ফসল রোপণ করেছিলেন তাদেরকে মানবিক দিক বিবেচনা করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি সময় দিয়েছেন। যাদের ফসলাদি ক্ষতি হবে তাদেরকেও ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিবেন। জমির ফসল তোলার পরেই তারা তাদের জমিতে কাজ শুরু করবেন। যারা ফসল করেছিলেন তারা সময় ও ক্ষতিপূরণ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।