মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

দেশে আসবেন বলে জাতিকে আর লজ্জায় ফেলবেন না, জনগণ তারেক রহমানকে আপন করে নিয়েছে : এমপি মানিক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম
দেশে আসবেন বলে জাতিকে আর লজ্জায় ফেলবেন না, জনগণ তারেক রহমানকে আপন করে নিয়েছে : এমপি মানিক

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে চাঁদপুর জেলা যুবদলের উদ্যোগে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যুবদল প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানগার্ড। আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ১৭ বছর যুদ্ধ করেছি। যারা মনে করছেন দেশে আসবেন, তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা। দেশে আসুন, তবে আগের সেই দিন ভুলে যান। দেশে আসবেন বলে জাতিকে আর লজ্জায় ফেলবেন না। বাংলাদেশের জনগণ তারেক রহমানকে আপন করে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, যুবদলকে আরও পরিশ্রমী ও শক্তিশালী হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে। মাদক নির্মূল ও ব্যক্তিগত লোভ সংবরণ করতে না পারলে একটি আদর্শিক যুবদল গড়ে তোলা সম্ভব নয়। মাদক সমাজকে ধ্বংস করে। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে।

শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, চাঁদপুরের যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা চাঁদপুর ইপিজেডে চাকরি করবেন, দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ভূমিকা রাখবেন। আজকে আমরা শপথ করি, কেউ ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী হবো না। বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাই মিলে তার পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করব।

Model Hospital

অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, একসময় আমরা ক্ষেতে-রাস্তায় রাস্তায় ঘুমিয়েছি। যারা আমাদের ঘুম পাড়িয়েছে, তারা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তিনি যুবদলের নেতাকর্মীদের প্রতিটি এলাকায় মাদকবিরোধী অবস্থান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার জনগণ যুবদলের পাশে থাকবে।

চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক ধাপ্পাবাজি করেছে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে আসছেন বলে আওয়ামী লীগ পালকি সাজাচ্ছে। সেই পালকিসহ তাদের ভরে দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ এ দেশে আর ফিরে আসবে না। জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারীদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে এবং তাদের মোকাবিলা করতে হবে।

অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম আরও বলেন, সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। মাদক, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশের পরিচালনায় সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বেপারী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, হাইমচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহির, শাহরাস্তি উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদুর হক মজুমদার ও কচুয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মহিউদ্দিন মজুমদার প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ফেরদৌস আলম বাবু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ উদ্দিন পলাশ, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহাজাহান কবির খোকা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল রাজ্জাক হাওলাদার, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান নজু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান খান কাজলসহ জেলা, পৌর, সদর উপজেলা ও বিভিন্ন উপজেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কচুয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি মহিউদ্দিন মজুমদার।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।