সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের হাজীগঞ্জ থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ভূমি অফিস পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১:৪০ পিএম
চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের হাজীগঞ্জ থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ভূমি অফিস পরিদর্শন
স্টাফ রিপোর্টার :চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান একদিনের ঝটিকা সফরে হাজীগঞ্জ থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথমে হাজীগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেন।
এ সময় অফিসার ইনচার্জ মো. জুবায়ৈর সৈয়দ তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। থানার বিভিন্ন সেবামূলক কাজের গতিবিধি বৃদ্ধিসহ মানুষের সেবা প্রদানের তাগিদ দিয়ে পরিদর্শন স্বাক্ষর করেন জেলা প্রশাসক। একই দিন হাজীগঞ্জ পৌরসভায় গেলে পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানকে কে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পৌরসভার সকল কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে অডিটোরিয়ামে নানা দিক তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি। এসময় মেয়রের কাজের স্বচ্ছতা দেখে পরিদর্শন স্বাক্ষরে প্রশংসা করেন তিনি।
একই দিন উপজেলার ৪ নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। জেলা প্রশাসককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বাহাদুর।
সর্বশেষ ৩ নং কালচোঁ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া নেতৃত্বে সচিব ইয়াকুব আলীসহ সকল ওয়ার্ডের সদস্যরা।
জেলা প্রশাসক পরিষদের সকল সেবা রুম পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন। চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়ার বার্ষিক কাজের মূল্যায়ন করে পরিদর্শন খাতায় স্বাক্ষর করেন জেলা প্রশাসক।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন, হাজীগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান মানিকসহ সহকারী কর্মকর্তা বৃন্দু।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।