রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ৩ হাজার ২শ' ক্ষুদ্রও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ

এ প্রণোদনার সঠিক ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন বাড়বে : মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:০১ পিএম
এ প্রণোদনার সঠিক ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন বাড়বে : মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি
শাহরাস্তিতে চলতি অর্থবছরে খরিপ -১ মৌসুমে উফশী আউশ ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচি  হিসেবে ৩  হাজার ২শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক  কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়।
বুধবার (১২- এপ্রিল )সকালে  শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে পরিষদ মিলনআয়তনে এ প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদের সভা প্রধানে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্রোগ্রামে টেলি কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।
তিনি বক্তব্য বলেন, বৈশ্বিক করোনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব বাসীকে অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের মধ্যে ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই দুর অবস্থা থেকে উত্তরণের কৃষকদের ফসল উৎপাদনে প্রনোদনা কার্যক্রম নিরলস ভাবে অব্যাহত রেখেছেন। যার মধ্যে সারের দাম কমানো উন্নত বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ ব্যবস্থা করা। সেজন্য তিনি সকল কৃষক কৃষাণীদেরকে ওই প্রণোদনা কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য স্বয়ং সম্পন্ন হওয়ার তাগিদ দেন। তিনি ওই সময় প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষক কৃষাণীদেরকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান। পরিশেষে আগত সুবিধাভোগী প্রান্তিক কৃষক ও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য সম্পূর্ণ করেন।
এ সময় কৃষিবিদ উপজেলা কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তারের স্বাগত বক্তব্যে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইউনুছ পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় এতে অতিথিদের মধ্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী , উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, শাহরাস্তি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার স্বপন কুমার চক্রবর্তী, উপ সহকারী কৃষি অফিসার বলরাম সাহা, ইসহাক  খন্দকার সহসকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, গণমাধ্যম কর্মী,  সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এবার শাহরাস্তিতে চলতি অর্থবছরে  প্রণোদনা কর্মসূচি হিসেবে ৩ হাজার ২শ’ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। ওই কৃষকদেরকে ৫ কেজি করে উফসি জাতের ১৬ টন ধান বীজ, ১০ কেজি করে  এমওপি  ৩২টন, ১০ কেজি করে ডিএপি ৩২ টন  সার বিতরণ করা হয়।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।