বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীকে হত্যা

প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীকে হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩, ৮:২৭ পিএম
প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীকে হত্যা

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পুলিশ বলছে, স্ত্রীর মোবাইলে কথা বলা নিয়ে স্বামীর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদ করায় স্ত্রী কর্তৃক মারধরের শিকার হন স্বামী। প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন স্বামী।

২৭ মে শনিবার সকালে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এসব তথ্য জানান। গত ২৫ মে বিকেলে টঙ্গীর পূর্ব থানার আরিচপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মো. মাসুদ রানা (৩৭) নওগাঁ জেলার রাণীনগর থানার উত্তর রাজাপুর গ্রামের মো. ফিরোজ সাকিদারের ছেলে। তার স্ত্রী বুলবুলি বেগম (৩৪) নওগাঁর মহাদেবপুর থানার বামনসাতা গ্রামের আয় বাবুর মেয়ে। তারা দুজনই গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার দেওয়ালিয়াবাড়ী কলেজ গেইট এলাকায় মিজানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বুলবুলি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন ও মাসুদ রিকশা চালাতেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন জানান, সাত বছর আগে মাসুদ ও বুলবুলির বিয়ে হয়। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় সাংসারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগে থাকতো। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সকালে কারখানায় না গিয়ে বাসায় ছিলেন বুলবুলি ও মাসুদ। রাত সাড়ে ৯টায় মাসুদ রুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর বুলবুলির বড় বোন আছিয়া আক্তার টপিকে মোবাইল ফোনে বুলবুলির খারাপ কিছুর সংবাদ দিয়ে দ্রুত তাদের রুমে যেতে বলেন। আছিয়া রুমে গিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

Model Hospital

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুমের দরজা ভেঙে মেঝেতে ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন ভিকটিম বুলবুলির ছোট ভাই কোনাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, রিকশাচালক মাসুদ প্রথমে মোছা. শাবানা নামের এক নারীকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। শ্বশুরবাড়িতে বসবাসের সুবাদে তার সমন্ধীর স্ত্রী বুলবুলি বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সাত বছর আগে বুলবুলিকে ভাগিয়ে বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রী মোছা. শাবানা তাকে তালাক দিয়ে চলে যান।

স্ত্রী বুলবুলি প্রায়ই মোবাইলে অন্য ছেলেদের সাথে কথা বলায় পরকীয়া সন্দেহ তৈরি হয় এবং ঝগড়া হতো। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরে আসলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং স্ত্রী বুলবুলি মাসুদকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। মাসুদ অপমান সহ্য করতে না পেরে ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় কোনাবড়ির ভাড়াবাড়িতে বুলবুলির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর দরজায় তালা দিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, মূলত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। আসামি মাসুদ রানা আদালতে বুলবুলি বেগম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।