বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ওসিকে না জানিয়ে অভিযানে গিয়ে গ্রামবাসীর পিটুনির শিকার এসআই

বগুড়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জুন, ২০২৩, ১১:৪৯ পিএম
ওসিকে না জানিয়ে অভিযানে গিয়ে গ্রামবাসীর পিটুনির শিকার এসআই

থানার ওসিকে না জানিয়ে এক বিট থেকে আরেক বিট এলাকায় মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে গ্রামবাসীর পিটুনির শিকার হয়েছেন বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম।

এ সময় গ্রামবাসী পুলিশের হাতে আটক খোকন রায় (৩৫) নামের এক যুবককে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেয়।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গাবতলী উপজেলার মড়িয়া হিন্দুপাড়া থেকে খোকন রায়কে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই দিন দিবাগত রাত ২টার দিকে খোকন রায়কে পুলিশ আটক করলেও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার হয়নি।

খোকন রায় গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মড়িয়া হিন্দুপাড়া গ্রামের রাজকুমার ওরফে খোকা রায়ের ছেলে। তিনি গোলাবাড়ি বাজারে ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে টাপেন্টাডল বিক্রির অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।

Model Hospital

জানা গেছে, গাবতলী মডেল থানার উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম কাগইল ইউনিয়ন বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যার আগে তিনি ছাড়াও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইউছুব আলী ও কনস্টেবল শাহাদৎ হোসেন মহিষাবান ইউনিয়নের মড়িয়া হিন্দুপাড়া গ্রামে যান। এ সময় ওই গ্রামের নির্মল রায়ের মেহগনি বাগানে বসে থাকা খোকন রায়কে তিনি আটক করেন। এরপর হ্যান্ডকাফের এক প্রান্ত তার এক হাতে এবং অপর প্রান্ত চিকন একটি মেহগনি গাছের সঙ্গে আটকে রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের লোকজন বলেন, খোকন রায়ের আত্মীয়স্বজন আটকের কারণ জানতে চাইলে এসআই জাহাঙ্গীর আলম তাঁর কাছে ১০০ পিচ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাওয়া গেছে বলে জানান। কিন্তু ট্যাবলেট দেখাতে না পারলে গ্রামবাসী পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এএসআই ইউছুব ও কনস্টেবল শাহাদৎ মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। পরে গ্রামের লোকজন এসআই জাহাঙ্গীরকে পিটুনি দিয়ে গাছ কেটে হ্যান্ডকাফসহ খোকনকে ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে এসআই জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে মড়িয়া হিন্দুপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, খোকন রায়ের বাড়িতে কেউ নেই। তাঁরা ঘটনার পরপরই আত্মগোপন করেছেন। গ্রামের লোকজন জানান, এর আগেও পুলিশ খোকনকে ধরে টাকা দাবি করে। টাকা দেওয়ার পরেও তাঁকে টাপেন্টাডল ট্যাবলেট দিয়ে মামলা দেয়।

তাঁরা আরও বলেন, ‘মহিষাবান ইউনিয়নের বিট পুলিশিং অফিসার সুজল দেবনাথ। আমরা তাঁকে চিনি। বিভিন্ন সময় তিনি গ্রামে আসেন। সোমবার যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের আগে কখনো এই গ্রামে দেখা যায়নি। সুজল দেবনাথ সঙ্গে না আসায় আমাদের সন্দেহ হয়। এ কারণে আমরা খোকনকে ছিনিয়ে নিয়েছি।’

খোকন রায়ের নিকটাত্মীয় পরিমল রায় বলেন, ‘আমাদের জানামতে খোকন ওষুধের ব্যবসা করে। সোমবার পুলিশ তাঁর কাছে কিছুই পায়নি। তারপরেও হ্যান্ডকাফ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এ কারণে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ছিনিয়ে নেয়।’

এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘খোকন রায়কে আটকের পর তাঁর কোমরে লুঙ্গির প্যাঁচে ১০০ পিচ টাপেন্ডাডল ট্যাবলেট পাওয়া যায়। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের লোকজন হামলা করে খোকনকে ছিনিয়ে নেন।’ থানার ওসিকে না জানিয়ে মাদক উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি নীরব থাকেন।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খোকন রায়কে আটকের পর ১০০ পিচ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। তবে এসআই জাহাঙ্গীর মাদক উদ্ধারে অন্য বিটে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে কিংবা থানার ডিউটি অফিসারকে জানায়নি।’

ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে রাত ২টার দিকে গ্রামের জঙ্গল থেকে খোকনকে আটক করা হয়েছে। পরে ১০০ পিচ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার দেখিয়ে খোকন রায়ের নামে মাদক আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital