বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের আশিকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩, ৯:৩৩ পিএম
চাঁদপুরের আশিকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২নং আশিকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জুন) সকাল ১০টায় আশিকাটি চাঁদখার বাজারস্থ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতর মিলনায়তনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. দীপু মনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দলীয় নেতাকর্মী সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজ করতে হবে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন সরকারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বাস আছে যে, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আমার বিরুদ্ধে যাই বলুক শেষ পর্যন্ত তারা কিন্তু আমার পাশেই আছে। তার সাহসিকতায় দেশের উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্বার্থে ও আমাদের নিজেদের স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। আর যদি না আনতে পারি কিন্তু এখন তো আমরা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করি তখন আর এই অভিযোগ করার সুযোগ থাকবে না। প্রতিটি ওয়ার্ড যেসকল উন্নয়ন কাজ বাকী রয়েছে আগামীতে সেসকল উন্নয়ন করে দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী এরশ্বাদ মিয়াজী, সাবেক সহ সভাপতি শহীদ উল্যাহ খান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ খান বাদল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আলী বেপারী, জাকির হোসেন, সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুকমল ধর রামু, সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন গাজী।
বর্ধিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী, আশিকাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাঈদুর রহমান সাজু খান, রফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন মাষ্টার, মোঃ বিল্লাল হোসেন খান, দপ্তর সম্পাদক মোখলেসুর রহমান ভুইয়া, আশিকাটি ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সেলিম মাল, যুগ্ম আহবায়ক শাহালম গাজী, মোঃ মামুন মাল, মাহবুব আলম গাজী, সদস্য মোঃ ফারুক খান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুস সামাদ টুনু, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক তাজুল ইসলাম হাওলাদারসহ আশিকাটি ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলালীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।