শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনাকে কটূক্তি ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদ সমাবেশে মায়া চৌধুরী

স্বাধীনতা বিরোধীরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আরেকটা পঁচাত্তর প্রতিষ্ঠিত করতে চায় : মায়া চৌধুরী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩, ১০:০০ পিএম
স্বাধীনতা বিরোধীরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আরেকটা পঁচাত্তর প্রতিষ্ঠিত করতে চায় : মায়া চৌধুরী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বলেছেন, দলের সাথে যারা বেঈমানী করেছেন তাদের সংশোধন হয়ে দলে ফিরে আসতে হবে। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ভেদাভেদ ভুলে দলের মধ্যে ঐক্য তৈরির বিকল্প নেই। বিএনপি সংবিধান মানে না, তারা মিথ্যার উপর ভর করে ক্ষমতায় আসতে চায়। স্বাধীনতা বিরোধীরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আরেকটা পঁচাত্তর প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

১৩ জুন বিকাল ৩টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার পুটিয়া তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি ও প্রকাশ্যে হত্যার হুমকির প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় মায়া চৌধুরী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো সংঘাত চায় না। ষড়যন্ত্র করলে বিএনপিকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী হবে। যারা দেশের সংবিধান মানেনা, তারা দেশ বিরোধী।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ মন্জুর হোসেন রিপনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢালীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএইচএম কবির আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু, মতলব পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা তালুকদার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদার, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আসমা আক্তার আঁখি, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত আলী বাদল, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হোসাইন মোহাম্মদ কচি।

Model Hospital

এছাড়াও প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কাউছার প্রধান, সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম শান্ত, সাবেক যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান ঢালী, রফিকুল ইসলাম প্রধান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক মমিন মিয়াজী প্রমুখ। এসময় খাদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ সমাবেশ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমকে সোনার তৈরী নৌকার বেচ পড়িয়ে দেন খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মাসুম।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’