শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহতলী কামিল মাদরাসার চামড়া সংগ্রহ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৩, ৯:৪৬ পিএম
শাহতলী কামিল মাদরাসার চামড়া সংগ্রহ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

চাঁদপুর সদর উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শাহতলী কামিল মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের চামড়া সংগ্রহ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ১৫জুন (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় মাদরাসার সভাকক্ষে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আপনারা কষ্ট করে চামড়া দেন । আপনাদের সহযোগিতায় লিল্লাহ বোডিং চলে। প্রাক্তন  ছাত্রদের চামড়া সংগ্রহে অনেক ভূমিকা রয়েছে। মসজিদে শুক্রবারে জুমআর নামাজের সময়  চামড়া সংগ্রহে আহবান জানাতে  হবে ।মসজিদের ইমামগন  চামড়ার বিষয়ে আহ্বান জানাবেন। আমাদের লোকাল শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক। ওনারা চামড়া সংগ্রহে ভূমি রাখে। কয়েকজন খুব কঠিন পরিশ্রম করে। যারা স্টাফ আছে তারা সহযোগিতা করবেন। ছাত্রদেরকে আপনারা ক্লাসে ক্লাসে আহবান জানাবেন । বিক্রিটাতে যেন ভালো মূল্য পাওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কমিটির সদস্যরাও একটু তৎপর থাকতে হবে। আপনারা বিক্রেতাদের সাথেও যোগাযোগ করবেন।

তিনি আরো বলেন, শাহতলী কামিল মাদরাসা একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। এ মাদরাসার সুনাম রয়েছে। অনেকে এ মাদরাসার লিল্লাহ বোডিং এ সহযোগিতা করছে। আমরাও সহযোগিতা করে আসছি। প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের যে অবকাঠামো সংকট রয়েছে, তার সমাধান হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপির সহযোগিতায় একটি ৪তলা ভবন হয়েছে। আপনাদের খোঁজ নিতে হবে। মূল কাজটা শিক্ষকদের করতে হবে। আপনারা সবাই লিল্লাহ বোডিং শরীক হচ্ছেন। আমি কৃতজ্ঞ।

Model Hospital

শাহতলী কামিল মাদরাসার সিনিয়র মৌলভী মাওলানা মিজানুর রহমান এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়া,

প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন, ২য় মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মান্নান, গভনিং বডির সদস্য মাওলানা আব্দুল হানিফ ,শাহতলী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ মেম্বার, শাহতলী বাজারের ব্যবসায়ী কারী আব্দুল ওয়াদুদ, অভিভাবক আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ, প্রাক্তন ছাত্র মাওলানা হাবিবুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবং আরো বক্তব্য রাখেন , মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মো: কামাল উদ্দিন, আরবী প্রভাষক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, ইংরেজী প্রভাষক আরবী প্রভাষক মাওলানা এ এন এম হেলাল উদ্দিন, বাংলা প্রভাষক মো: বেলায়েত হোসেন মিজি, সহকারি শিক্ষক আহসান হাবীব, সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারি শিক্ষক আহসান হাবীব, শরীরচর্চা শিক্ষক মো: শরীফ হাওলাদার, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আনিসুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ফজলুল হক মুন্সি, ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মো: মোস্তফা খান, স্থানীয় মো: নান্নু মিজি, মাদরাসার হিসাব রক্ষক মো: শরিফুর রহমান খান, অফিস সহকারি মো: রিয়াদ হোসেন মিজি, অফিস সহকারি মো: শরীফ খান সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ অন্যান্যরা।

সভা শেষে দোয়া আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’