শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান রাখতে আবারো নৌকায় ভোট দিতে হবে : ডা: সাগর

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০২৩, ২:০০ পিএম
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান রাখতে আবারো নৌকায় ভোট দিতে হবে : ডা: সাগর
ফরিদগঞ্জ আসনটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান রাখতে আবারো নৌকায় ভোট দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা হারুন অর রশিদ সাগর। তিনি গতকাল বুধবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫ নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন এর আষ্টা ১ নং ওয়ার্ডের গুচ্ছ গ্রামের  ঠাকুর বাড়িতে উঠান বৈঠক এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে ভাসছে কিন্তু সেই তুলনায় আমরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা বাসী একটু পিছিয়ে আছে, তাই ফরিদগঞ্জ উপজেলা কে একটি উন্নত সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আবারো নৌকায় ভোট চাই।
আমি গত দুই বার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চেয়েছি, আগামীতে ও চাইবো, আমি বিশ্বাস করি তিনি এবার আমাকে মনোনয়ন দিয়ে জনগনের পাশে আরো বেশি করে থাকার সুযোগ তৈরি করে দিবেন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে, এই গতি রুখতে নানানদিক থেকে নানান ষড়যন্ত্র হচ্ছে আমাদের নেত্রী ইনশাআল্লাহ সেগুলো মোকাবিলা করে আবারো সরকার গঠন করবেন। আমি ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কোন ধরনের গ্রুপিং চাইনা, আমি চাই ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ, সকলকে আহব্বান জানাই আপনারা সকল মতবেদ ভূলে শেখ হাসিনার জন্য হলেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক কাতারে সামিল হই।
১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আখন্দ।
উঠান বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ  উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল, ৫ নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ইরান মিজি, যুবলীগের সভাপতি ফিরোজ আলম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, ৫ নং গুপ্টি ইউনিয়ন  আওয়ামিলীগ নেতা জিল্লুর রহমান পাটওয়ারী, দেলোয়ার হোসেন, লিটন চন্দ্র কুড়ি,   ২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন তপাদার, পাটওয়ারী বাজার ব্যাবসায়ী কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ৫ নং গুপ্টি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম স্বপন, সিপন চন্দ্র দাস, মোহাম্মদ ইমান হোসেন পাঠান, চাঁদপুর পৌরসভা যুবলীগের সদস্য জাহিদুল হক মিলন, চাঁদপুর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ফরিদুজ্জামান বাঁধন পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জ পৌরসভা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী,  ১ নং বালিথুবা পঃ ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুজ্জামান রনি, ছাত্রলীগের সভাপতি ইমাম হোসেন পাটওয়ারী ফরিদ, সেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ রাব্বি পাটওয়ারী,  জেলা ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমান মজুমদার, কাউসার হামেদ স্বপন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা  আব্দুর রউফ রুবাইয়েত, তানভীর আহমেদ,, ৫ নং গুপ্টি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা আমির হোসেন ভূইয়া,  ৬ নং গুপ্টি  ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা ফয়সাল আহমেদ, সহ শতাদিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তিনি ৫ নং গুপ্টি ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
কবর জিয়ারত করা নেতারা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক বিএড, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার, ঘনিয়া পীরসাহেব কেবলার  মাজার জিয়ারত,বীর মুক্তিযোদ্ধা দ্বীন ইসলাম শেখ, সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সেকমত আলী সওদাগরের,বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সওদাগর,, বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল ইসলাম সওদাগর,বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল সওদাগর, সাবেক আওয়ামীরীগ নেতা মোহাম্মদ আলী মোস্তান, আওয়ামীলীগ নেতা  ও  বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখের,সাবেক ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সভাপতা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ বাহার পাটওয়ারীর,বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি নাছির আহমেদ পাটওয়ারীর,বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিব উল্লাহ মোল্লা,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল মাস্টার,বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার পাঠান,ফজলুর কবির,ডা: সলিম উল্লাহর,সহীদ বুদ্ধিজীবী নান্নু মিয়ার জমাদার, আওয়ামীলীগ নেতা ফিরোজ আহমেদ জমাদার এর পিতা ,সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা কালু মিয়া জমাদার,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহেল আহমেদ জমাদারের  কবর জিয়ারত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’