শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতের রায় ঘোষণা

মতলব উত্তরের এখলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩, ৮:৫৫ পিএম
মতলব উত্তরের এখলাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা

মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আদালত।

গত ২৫ জুন কুমিল্লা সদর কোর্টের সিনিয়র সহকারী জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রাপ্ত বিচারক শহীদুল্লাহ্ কায়সার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল মোকদ্দমা নং ৪/২০২৩ ইং মূলে এ রায় ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন কমিশন কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদেশ প্রদান করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায় যে, বিগত ২৮ নভেম্বর ২০২১ ইং তারিখে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলাধীন এখলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয় এবং এডভোকেট জসিম উদ্দিন উক্ত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। উক্ত নির্বাচনে মো. মফিজুল ইসলাম মটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। এখলাশপুর ইউনিয়নের মোট ৯ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মেঘনা নদীর পশ্চিমে চরাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে যাওয়ার একমাত্র পথ ট্রলার। ভোট গ্রহণের দিন উক্ত কেন্দ্রগুলোতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট জসিম উদ্দিনের এজেন্টদেরকে মটর সাইকেল প্রতীকের লোকজন বের করে দেয়। উক্ত বিষয়ে কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসারদের ফোন করে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। উল্লিখিত কেন্দ্রগুলোতে মৃত ব্যক্তির ভোট প্রদান করে, একজন এর ভোট আরেকজনের নামে প্রদান করে, বাতিলকৃত ভোট মটর সাইকেল প্রতীকের নামে গণনা করে, প্রকাশ্যে ভোট গণনা না করে, নৌকা প্রতীকের ১৩০টি ভোটের বান্ডেলকে ১০০ ভোটের বান্ডেল এবং মটর সাইকেলের ৭০টি ভোটের বান্ডেলকে ১০০ টি ভোট গণনা করে কাল্পনিক ও বেআইনি ফলাফল প্রকাশ করেন বলে দাবী করেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট জসিম উদ্দিন মামলা চলাকালীন সংশোধনী দরখাস্ত আনয়ন করে এখলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সকল কেন্দ্রের ফলাফল বেআইনি দাবি করে প্রতিকার প্রার্থনা আবেদন করে।

মামলার বাদী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট জসিম উদ্দিনের আনিত দরখাস্তে দাবি করেন যে, মটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মফিজুল ইসলাম অবৈধভাব প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন ফলাফলে অনিয়ম করেন এবং নিজ পক্ষে ফলাফল প্রস্তুত করান। অপরদিকে মফিজুল ইসলাম উক্ত দাবি অস্বীকার করেন। কিন্তু উভয়পক্ষ সকল কেন্দ্রের ভোট গণনা বিষয়ে আপোষ করে নিবেদন করেন যে, সকল কেন্দ্রের ভোট গণনার পর প্রাপ্ত ফলাফল এর ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি হতে তাদের আপত্তি নেই। সে প্রেক্ষিতে ভোট পুনঃগণনা করে দেখা যায় যে, এখলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ থেকে ৬ নং কেন্দ্র সমূহে নির্বাচনের দিন প্রকাশিত ফলাফলের সাথে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক পুনঃগণনাতে প্রাপ্ত ফলফলের গরমিল আছে। উক্ত ১থেকে ৬ নং কেন্দ্র সমূহে নির্বাচনের দিন সঠিকভাবে ভোট গণনা করে ফলাফল প্রকাশিত হয় নাই মর্মে ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রতীয়মান হয়। ৭ ও ৮ নং কেন্দ্রে ডাবল সীলযুক্ত কিছু ব্যালট পাওয়া যায় নৌকা প্রতীকের ভোটের বান্ডেলে। উক্ত ভোটগুলো প্রকৃতপক্ষে বৈধ ভোট না অবৈধ ভোট সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় নাই। ৯নং কেন্দ্রে মটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী ৫৩৭ ভোট পেয়েছেন মর্মে ফলাফল প্রকাশ করা হলেও গণনার সময় ৩৩৭ টি ব্যালট পাওয়া যায়। এসব বিষয় সমূহ পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রতীয়মান হয়। যে, এখলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সঠিকভাবে ভোট গণনা হয় নাই। নির্বাচনের দিন প্রকাশিত ফলাফল এবং পুনঃগণনার ফলাফল তুলনা করলে গণনায় যে অনিয়ম হয়েছে তা স্পষ্টভাবে প্রমানিত হয়। যেহেতু ভোট গণনার অনিয়মের কারণে মটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সুবিধা প্রাপ্ত হয়েছেন তাই পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি প্রমান করে যে, মফিজুল ইসলাম বেআইনভাবে ভোট গণনা করিয়ে যোগসাজশি একটি ফলাফল প্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে মটর সাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজুল ইসলাম কে বিজয়ী ঘোষণা করা বেআইন ও অবৈধ মর্মে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে সকল কেন্দ্রের সকল প্রার্থীর প্রাপ্ত বৈধ ভোটার সংখ্যা নিরূপন করা সম্ভব হয় নাই বিধায় কাউকে বিজয়ী ঘোষণার আদালতের কোন সুযোগ নেই।

Model Hospital

আদেশে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন সচিবালয়, চাঁদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ও মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা, এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে গত নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, আমাকে পরিকল্পিত ভাবে ও কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছিলো তা আদালত কর্তৃক প্রমাণিত হয়েছে এতেই আলহামদুলিল্লাহ। আমার ইউনিয়নবাসী আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্ট। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ করব যাতে আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে ইউনিয়নবাসীর আশা পুরন করবে এই প্রত্যাশা করি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’