শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে, তাই আমাদের এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করতে হবে

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৩, ৮:৫৭ পিএম
আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে, তাই আমাদের এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করতে হবে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৬ জুলাই রোববার দুপুরে উপজেলা কাউনিয়া এলাকায় আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার আয়োজনে ও উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক মহিউদ্দিন ভূঁইয়া ইরানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য, চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া বলেন, শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী করতে ফরিদগঞ্জ আসন আওয়ামীলীগের জয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। তাই আমাদের এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে আসছে। তাই অনেকেই মনোনয়ন চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মনোনয়ন দিবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড এবং দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যেহেতু আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন এবং অংশগ্রহণমুলক হবে। তাই যাকে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত হবে, অবশ্যই দল সেই ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দিবে।

Model Hospital

আমি বিগত দিনগলোতে আওয়ামীলীগ এবং সকল অঙ্গসংগঠনগুলোর সাতে নিরবচ্ছিন যোগাযোগ রেখেছি । তারাও আমার খোঁজ কবর রেখেছেন। আজকের এই উপস্থিতিই তার প্রমাণ। আপনাদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামবো। প্রতিটি ইউনিয়ন ইউনিয়নে যেয়ে সভা করবো, কথা বলবো। আমাদের কথা হলো আওয়ামীলীগ সরকার ধারাবাহিক ভাবে যেই উন্নয়ন করছে, এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে আমাদের আওয়ামীলীগের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশের যেই ঘোষনা দিয়েছেন, তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদেরও সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বিজয় নিশ্চিতে কাজ শুরু করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার, সহ-সভাপতি রফিকুল আমিন কাজল, যুগ্মসম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান রানা, আরিফুর রহমান আজাদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার সহিদ উল্ল্যা তপদার, ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম হারুনুর রশিদ, শেখ শাহ আলম, এস এম কাউসারুল আলম কামরুল. শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন, যুবলীগ নেতা দেলোয়ার মোল্লা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম সোহাগ প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক ফারুকী, প্রচার সম্পাদক সুলতান আহাম্মেদ রিপন, সদস্য হাসান আব্দুল হাই, আ’লীগ নেতা জাফর উল্লা সুজন ছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ, যুবমহিলালীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’