বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৩, ১০:০২ পিএম
ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গেছে প্রায় ৮ বছর পূর্বে। স্বর্নালী আক্তার তখন অবুঝ শিশু। মা তাছলিমা বেগম মেয়ের যেন কোন কষ্ট না হয় সে জন্য আর বিয়ে পর্যন্ত করেনি। তাছলিমা আক্তার একমাত্র মেয়েকে বুকে আগলে রেখে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে থাকে। নিজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থেকেই কোন মতে জীবন জীবিকা চলে আসছিল। স্বপ্ন ছিল একমাত্র মেয়েকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলবে। তাছলিমা আক্তারের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল।

৩০ জুলাই রোববার দুপুরে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারী ডিগ্রী কলেজ থেকে বাড়ি ফিরেই আত্মহত্যা করে স্বর্নালী (১৯)। মায়ের সকল স্বপ্নকে অপূর্ণ রেখেই সৌদি প্রবাসী প্রেমিকের সাথে অভিমান করে ছোট মামা সাখাওয়াত হোসেনের বসত ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে স্বর্নালী।

আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে মৃত দেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

জানা যায়, স্বর্নালী উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের দায়ছারা গ্রামের মৃত আক্তার হোসেন’র একমাত্র মেয়ে। স্বর্নালী আক্তার নানার বাড়ি উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম রূপসা বেপারী বাড়িতে থেকেই পড়া লেখা করতো। স্বর্নালী ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারী ডির্গ্রী কলেজে ব্যবসা বিভাগ থেকে এইবার এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছিল।

Model Hospital

স্বর্ণালীর সহপাঠি রুনাসহ আরো কয়েজন জানান, গত ৩ বছর পূর্বে উপজেলা ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের কালির বাজার এলাকার সৌদি প্রবাসী আহসান সজিবের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সজিব প্রবাসে থাকলেও তাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ছিল, কিন্তু ঘটনার দিন জানতে পারে সজিব তার ভাই ও মায়ের কথায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খালাতো বোনকে বিয়ে করেছে বলে স্বর্নালীকে জানায় এবং স্বর্নালীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে কলেজ থেকে ফিরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
কেএফটিতে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্বোধন
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের ঢাকিরগাঁওয়ে অবস্থিত কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ উইংয়ে ‘আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি’ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরি ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এম.এ বারী।উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী।
পরে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অডিটোরিয়ামে আব্দুর রহমান মোল্লা লাইব্রেরির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠিত হয়। কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বেলায়েত হোসেন জুলহাসের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজসেবক আলহাজ্ব  এম.এ বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার মরহুম পিতা আব্দুর রহমান মোল্লার নামে লাইব্রেরিটি করায় মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি শোকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি আমার  জীবদ্দশায় অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করেছি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাস্থান ও বিয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বিষয়ে তিনি বলেন, এ কলেজটি একদিন দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশ-বিদেশের ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে। মতলববাসীর নিকট আকুল আবেদন আপনারা কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের সাথে ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ উদ্দিন সরকার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম ইশমাম এবং জাপান অধিবাসী ইয়াসুও হিরায়ামা।
বক্তব্যে অতিথিরা লাইব্রেরির গুরুত্ব, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মননশীলতা বিকাশে পাঠাগারের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়তে এবং জ্ঞান অর্জনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার। বই হোক জ্ঞানের আলো, লাইব্রেরি হোক আলোকিত ভবিষ্যতের সোপান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল ও সাবেক সচিব মো. জাকির হোসেন কামাল।
অনুষ্ঠানের পূর্বে স্কাউট, গার্লস গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের  বিভিন্ন শ্রেণির সেরা পারফরমার ও ক্লাস ক্যাপ্টেনদের উপস্থিতিতে অতিথিদের ফুল, উত্তরীয় ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।