বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজ বাড়ীতে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ সৈয়দ আলীর, এগিয়ে গেলেন পুলিশ ও সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩, ৮:২৮ পিএম
নিজ বাড়ীতে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ সৈয়দ আলীর, এগিয়ে গেলেন পুলিশ ও সাংবাদিক

ভরণপোষণ চাওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে আহত করে বাড়িছাড়া করেছে তার ছেলে। জীবন সায়াহ্নে এসে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন অসহায় বাবা সৈয়দ আলী (৮০)।

বৃদ্ধের শরীরের নানান জায়গায় দগদগে লাল চিহ্ন (আঘাত)। বয়স হয়ে যাওয়ায় আয়-রোজগার করতে না পেরে নিজের সন্তানদের কাছে ভরণপোষণ চান তিনি। কিন্তু তার এক ছেলে, ছেলের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও নিজ সহধর্মিণী দেখভালের দায়িত্ব না নিয়ে উলটো মারধরের পর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তার।

মঙ্গলবার রাতে এমনটিই অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে গত শনিবার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শেখপুরা গ্রামে।

জানা যায়, সন্তান ও সহধর্মিণী মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিলে চলে আসেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে। দুদিন বৃদ্ধ সৈয়দ আলীর স্থান হয় খোলা আকাশের নিচে মসজিদ চত্বর ও রাতে পার্শ্ববর্তী রজনীগন্ধা মার্কেটের গলিতে। টানা বৃষ্টিতে ভিজে খেয়ে না খেয়ে কাটে তার জীবন।

Model Hospital

পরে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর। তারা হাজীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাতকে অবগত করেন।
স্থানীয় মোবাইল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, ইকরাম ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান জানান, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিফাত বৃদ্ধ সৈয়দ আলীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে রাতেই হাজীগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন।

বৃদ্ধ সৈয়দ আলী জানান, প্রথমে অন্যের নৌকা, পরে ভ্যান চালিয়ে দুই ছেলে নজরুল ইসলাম ও নূর হোসেন এবং দুই মেয়ে কোহিনুর ও কুলসুমাকে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকে ছেলেরা আলাদা সংসার করছেন। কিন্তু তাদের কেউ-ই বাবার ভরণপোষণ দেন না। খুব কষ্টে অন্যের সহযোগিতায় নিজের খরচ চালাচ্ছিলেন। সন্তানদের ভরণপোষণের কথা বললে তারা কয়েকবার সৈয়দ আলীকে শারীরিক নির্যাতন করেন।

বড় ছেলের সোনাপুরে মুদি দোকান, ছোট ছেলে প্রবাসে থাকেন। গত শনিবার দুপুরে বড় ছেলের কাছে কিছু মৌসুমি ফল খেতে চাইলে তিনি তার বাবাকে জানান, ছেলেরা বাবার কোনো ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে পারবে না। এর প্রতিবাদ করলে নিজ সহধর্মিণী রুমেন্নেছা ও বড় ছেলে, ছেলের বউ মারধর করেন এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে সৈয়দ আলী ঘুরতে ঘুরতে হাজীগঞ্জে চলে আসেন।

বৃদ্ধ সৈয়দ আলী মার্কেটের গলিপথে। নাতি আল মাহমুদ রাছেল কোলে করে নিয়ে যাচ্ছেন (মাঝে)। ও বৃদ্ধ’র পরিবারের সাথে হাজীগঞ্জ থানার এস আই আব্দুর রহমান (শেষে)।

ভুক্তভোগী বাবা বলেন, বয়স হয়ে গেছে। এখন কি আর শরীরে এত জোর আছে যে কামাই করে খাব। ছেলেদের কাছে তাই ভরণপোষণ চেয়েছি। আর তার জন্য এভাবে ওরা আমাকে মারবে? আমার বাড়ি থেকে আমাকেই বের করে দেবে— এটি মেনে নিতে পারব না। আমি এর বিচার চাই।

বড় মেয়ে কোহিনুর জানান, বাবাকে মারধর করা হয়নি। তিনি বিছানায় প্রস্রাব পায়খানা করে দেন। ভাইদের ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে, আত্মীয়স্বজন এ কারণে বাড়ি আসেন না। তাই আমরা বকা দিলে তিনি অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

এ বিষয়ে বড় ছেলে বাবাকে নিতে না এলেও টেলিফোনে বলেন, তিনি বিছানায় প্রস্রাব-পায়খানা করে দিলে আপনি কি মানবেন? আমার একটা স্ট্যাটাস আছে না।
বাবাকে নিতে কেন আসেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এত সময় আমার নেই।

ছোট মেয়ে কুলসুমার বড় ছেলে আল মাহমুদ রাছেল জানান, আমার নানাকে গত দুই দিন ধরে বহু জায়গায় খোজেছি। নানাকে কেউ নির্যাতন করে থাকলে আপনারা বিচার করিয়েন।

হাজীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাত বলেন, রামগঞ্জের ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের কর্মী ও হাজীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রশিদের সহযোগিতায় বৃদ্ধ সৈয়দ আলীর বড় মেয়ে ও নাতিকে প্রায় ৫ ঘণ্টা বুঝানোর পরও তারা নিতে আগ্রহী হন। আমি চাই যে সন্তানরা তাদের বাবাকে ভরণপোষণ দিতে পারে না, তাদের শাস্তি হোক।’

রামগঞ্জ থানার ওসি এমদাদ হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital