শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাড়ে ১১ লক্ষাধিক টাকার ইয়াবা নিয়ে খুলনায় যাওয়ার পথে মাদক ব্যবসায়ী চাঁদপুরে আটক

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩, ১০:৩৩ পিএম
সাড়ে ১১ লক্ষাধিক টাকার ইয়াবা নিয়ে খুলনায় যাওয়ার পথে মাদক ব্যবসায়ী চাঁদপুরে আটক
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশনায় ও চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুহাম্মদ মহসিন এর তত্ত্বাবধানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা ফেরীঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন মডেল থানার এসআই মোঃ শাহরিন হোসেন ও এএসআই তছলিম হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে হরিনা ফেরীঘাট সংলগ্ন জাহিদ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট নামীয় দোকানের সামনে থেকে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের বুলবুল শেখের ছেলে আল আমিন শেখ (২৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৮৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি মোটরসাইকেল ও ১টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী জানায়, সে দীর্ঘ দিন যাবৎ চট্টগ্রাম হতে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে। সে চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থেকে ৩ হাজার ৮৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করে মোটরসাইকেল যোগে কুমিল্লা চাঁদপুর হয়ে হরিণা ফেরীঘাট পার হয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।
পথিমধ্যে পুলিশের চেকপোস্ট দেখে পালানোর চেস্টা কালে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে গ্রেফতার করে এবং দেহ তল্লাশী করে পরিহিত প্যান্টের উভয় পকেট হতে নীল রংয়ের জিপার ব্যাগের ভিতর রক্ষিত ইয়াবা ট্যাবলেট, যার অনুমানিক মূল্য ১১ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা। একটি রেজিঃ বিহীন টিভিএস কোম্পানীর Apache 4V মডেলের ১৬০ সিসির পুরাতন মোটর সাইকেল। যার আনগমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকা এবং আসামীর ব্যবহৃত স্যামসাং গ্যালাক্সি A03s মডেলের পুরাতন মোবাইল উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসায়ী আরো জানায়, সে চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুরের জনৈক ইব্রাহীম প্রকাশ ইবু এর নিকট হতে উক্ত ইয়াবা ক্রয় করে মোটরসাইকেল যোগে খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবন কারীদের নিকট অবৈধভাবে বিক্রয় করার পরিকল্পনা ছিল।
গ্রেফতারকৃত আল আমিন শেখ (২৩) ও সহযোগী ইব্রাহীম প্রকাশ ইবু (২৭) দ্বয়ের বিরেুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় বুধবার (৯ আগস্ট) ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে ৩৬(১) সারণির ১০(খ)/৩৮/৪১, নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশ জানায়, চাঁদপুর জেলাকে মাদক মুক্ত করা এবং মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্ম ও যুব সমাজ কে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ চাঁদপুর জেলা পুলিশ। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলমান থাকবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’