বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের ১৪ ইউনিয়নে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন করল ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩, ১১:০৬ এম
চাঁদপুরের ১৪ ইউনিয়নে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন করল ইসলামী আন্দোলন
চাঁদপুর সদর উপজেলা ১৪ টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন করল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকাল ও বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের ব্যবস্থাপনায় উপজেলার সকল ইউনিয়নের নির্ধারিত স্থানে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রতিটি ইউনিয়ন তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা নেতৃবৃন্দ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিটি ইউনিয়ন তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে নেতা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সম্মেলনে ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলন ও সকাল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থেকে নেতা কর্মীরা সবগুলো স্থলে উপস্থিত হন।
সকালে ১৪ নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি মাওলানা নুরুল আমিন। বিকেলে ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন। ৬ নং মৈশাদী ইউনিয়নের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি কে এম ইয়াসিন রাশেদসানী। ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সহ-সভাপতি মাওলানা গাজী মোহাম্মদ হানিফ। ৪নং আশিকাটি ইউনিয়নের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের জয়েন সেক্রেটারি মাওলানা বেলাল হোসেন রাজী। হানারচর ইউনিয়নের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শাহ জামাল গাজী সোহাগ। ৫নং রামপুর ইউনিয়নের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মাওলানা বেলাল হোসাইন।
এছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়ন তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে জেলা ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
প্রতিটি ইউনিয়নে একযোগে একই দিনে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীদেরকে অনেকটা উজ্জীবিত দেখা যায়। সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী দিনে এদেশের মানুষ, ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। তারা বলেন, এই সরকারের পতন ঘটাতে ও জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাবে।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।