শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে গরুর বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ১০:৫৪ পিএম
ফরিদগঞ্জে গরুর বর্জ্যে পরিবেশ দূষণ

ফরিদগঞ্জে বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের বালিথুবা গ্রামের রহমত উল্লাহ’র গরুর খামারের বর্জ্যে পানি ও বায়ু দূষণের শিকার হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন আশেপাশের ৪ বাড়ির প্রায় ৫০ টি পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষ। কৃষ্ণপুর- বালিথুবা দরবার শরীফ যাওয়ার পথে ও আশপাশের পুকুর, ডোবা, গড়েরর পানি দূষণের ফলে বিভিন্ন জীবাণুর সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকাবাসী খামার অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলেও কার্য্যত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের বালিথুবা এলাকার অলি উল্যাহ উকিলের ছেলে ব্যবসায়ী রহমত উল্যাহ বাড়ির আঙ্গিনায় নাহার এগ্রো ফার্ম নামে গরুর খামার করেছেন। বর্জ্য অপসারনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে খোলা স্থানে তিনি বর্জ্য অপসারণ করার ফলে আশেপাশের ৪টি বাড়ীতে সব সময় দুর্গন্ধের লেগে থাকছে। বর্জ্য খোলা স্থানে ফেলার কারণে বিভিন্ন জলাশয়ের পানি দূষণের ফলে বিভিন্ন জীবানুর সৃষ্টি হচ্ছে ও মশার জন্ম নিচ্ছে।

এছাড়া এ রাস্তায় চলাচলকারী সাধারন মানুষ ও মসজিদের মুসল্লীদের চলাচল ব্যহত এবং মুসল্লীদের জামা কাপড় নষ্ট হচ্ছে।

ফার্মের পাশের আয়েশা বেগম লিপি বলেন, রহমত উল্যাহ আমার বসত ঘরের পিছনে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। এখানে প্রায় শতাধিকের মত গরু-ছাগল লালন পালন করছেন। খামারের গরু-ছাগলের বর্জ্যের দুর্গন্ধ ঘরের মধ্যে সব সময় থাকে। গরুর বর্জ্যের গন্ধে আমরা ঘরে থাকতে পারি না, ঘুমাতে পারিনা, খেতে পারিনা এমনকি আমার সন্তানরা ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারেনা।

Model Hospital

মসজিদের মুসল্লী সহিদ উল্লাহ, আবুল হোসেন জানান, খামারের বর্জ্য দ্বারা দূষিণের ফলে ঠিক মত নামাজ, রোজা করতে পারি না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার অবহিত করলেও তারা কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তারা আরও জানান, রহমত উল্যাহ’র অনেক টাকা থাকার কারনে তার বিরুদ্ধে কেহই কথা বলেনা এবং জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা তার টাকার কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। যে কেহই তার বিরুদ্ধে কথা বলে, টাকার বিনিময়ে তার মুখ বন্ধ করে রাখা হয়।
রাস্তায় চলাচলকারী স্থানীয় কয়েকজনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বলেন, গত প্রায় বছর খানেক সময় ধরে রহমত উল্যাহকে বর্জ্য অপসারনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলে আসলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে খামার দেয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসন এবং সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

গরুর খামার দিয়ে পরিবেশ দূষনের বিষয় জানতে চাইলে খামারের মালিক রহমত উল্যাহ পরিবেশ দূষনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি অন্যত্র নতুন করে খামার তৈরি করছি এবং অচিরেই খামার স্থানান্তর করবো। বর্জ্য নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না করে এবং স্থানীয়দের বসবাস অযোগ্য খামার তৈরির কেন করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে পারবেননা বলে জানান।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম হারুন অর-রশিদ জানান, এ বিষয়ে আমি রহমত উল্যাহকে বলেছি গরুর খামার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া জন্য এবং তা অচিরেই সরিয়ে নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমি গত দুই দিন আগে জেনছি, আমি এ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছি এবং সপ্তাহে একদিন দায়িত্ব পালন করছি। আগামী শনিবার আমি ঘটনাস্থলে যাবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’