শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত তৃনমূল নেতাকর্মীরা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩, ১২:৩২ এম
মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত তৃনমূল নেতাকর্মীরা

আজ ১৩ অক্টোবর শুক্রবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে ‘শান্তি ও উন্নয়নের সমাবেশ’ করবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করছে।

ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকালে ৩টায় নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল। ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে মঞ্চ পরিদর্শন করেন তিনি।

ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য সরকার মো. আলাউদ্দিন বলেন, সমাবেশ সফলে সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। ইউনিয়ন প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকারের নানান উন্নয়ন সর্ম্পকিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড সহকারে মিছিল নিয়ে স্বতস্ফুর্ত সমাবেশে যোগ দেবেন বলেও জানান তিনি। ব্যানার, ফেস্টুন সহকারে স্থানীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মিছিল নিয়ে স্বতস্ফূর্ত ভাবে সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

Model Hospital

এ উন্নয়ন ও শান্তি সমাবেশকে ঘিরে মতলব উত্তর উপজেলা ও ফতেপুর পশ্চিম আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেশ উচ্ছ্বসিত। সমাবেশকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সাজানো হচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন, তোড়ন ও অসংখ্য গেইট। ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে মতলব উত্তরের অলিগলি। নেতাকর্মীরা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে তুলে ধরেছেন। অনুষ্ঠানস্থল থেকে আশপাশের এলাকাগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল এমপির ছবি শোভা পাচ্ছে। সাথে রয়েছে সরকারের নানান উন্নয়নের চিত্র।

ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়ে ওঠা আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

আজকে শেখ হাসিনার জন্যই বাংলাদেশের অর্জন এখন সারা দুনিয়ার নজরকাড়া। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় দিনবদলের রূপকার শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতার বিকল্প নেই।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’