শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে স্মার্ট বাংলাদেশ রুপান্তরের লক্ষ্যে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ

শান্তি ও উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই : রুহুল এমপি

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩, ৮:৪৬ পিএম
শান্তি ও উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই : রুহুল এমপি

চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। আজকের বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। কোভিড উত্তর রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকালীন চরম বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও বাংলাদেশ অনেকের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভিশনারী, ডায়নামিক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্যে। যে কারণে আজ বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ডিজিটাল বাংলাদেশ হইতে স্মার্ট বাংলাদেশ রূপান্তরের লক্ষ্যে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

নুরুল আমিন রুহুল বলেন, শান্তি ও উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ দেশে অস্থিরতা চায় না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে।

বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতেই উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিরাপদ। দেশের আপামর জনগণের একমাত্র আস্থা ও ভরসার ঠিকানা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই বাংলাদেশ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় মতলব উত্তর-দক্ষিণও এগিয়ে যাচ্ছে। এই সাড়ে চার বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা কাজ হয়েছে, কিছু দিনের মধ্যে মতলব গজারিয়া সেতুটি ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যায়ে নির্মিত হবে। এই অঞ্চলের মানুষ কখনো বঙ্গবন্ধু, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও নৌকার প্রশ্নে আপোস করে নাই, আগামীতে করবে না।

মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. আলাউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আরিফ উল্যাহ সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ প্রধান, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন খান সুফল, জেলা মহিলা লীগ নেত্রী লাভলী আক্তার, চাঁদপুর জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য তাছলিমা আক্তার আঁখি, ফরাজীকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম, দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশের আলোর সম্পাদক সাংবাদিক মফিজুর রহমান খান বাবু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ জহির, ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়ন ওবায়েদ উল্লাহ সিদ্দিকী কাজল, মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশিদ, মতলব দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অহেদুজ্জামান ওয়াদুদ, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফারুক, ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হেলাল সরকার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা, মতলব উত্তর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর নবী খান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাউসার আলম পান্না, ছেংগারচর পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হানিফ অপু, তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাজহারুল ইসলাম, মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সোহাগ সরকার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নূরে আলম স্বপন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, মতলব পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম রব্বানী, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এডভোকেট আবির হায়াত সিহাব, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তামিম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান মোহাম্মদ সাকিব।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’