বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

রামপুরে স্ট্রোকে দুদু গাজীর মৃত্যু বলে দাবি প্রতিপক্ষ হেলাল গাজীর পরিবারের : সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৩, ১১:৪১ পিএম
রামপুরে স্ট্রোকে দুদু গাজীর মৃত্যু বলে দাবি প্রতিপক্ষ হেলাল গাজীর পরিবারের : সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নে সম্পত্তিগত বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক বিতর্কের মাঝে দুদু গাজী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান প্রতিপক্ষ হেলাল গাজী গংরা। এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহত দুদু গাজীর পরিবার।
জানা যায়, গত শনিবার ১৪ অক্টোবর সকালে ইউনিয়নের ছোট সুন্দর এ. আলী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ঘরে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে আসলে সম্পত্তিগত বিরোধে নিহত দুদু গাজীর ছেলে মনির গাজী বাঁধা দিলে দুই পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা তৈরি হয়। এর মাঝেই হঠাৎ করে প্রায় ১২০ ফুট দূরত্বে দুদু গাজী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উঠিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে নিয়ে বিছানায় রাখে। স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক আসার পর অবস্থার অবনতি দেখে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় হেলাল গাজী বলেন, আমাদের এ সম্পত্তি নিয়ে চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা চলমান আছে। পরে তারাও আমাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দেন। ঘটনার দিন আমাদের বসত ঘরে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা মিটার লাগাতে এলে মনির গাজী বাঁধা দেন। পরে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে বুঝিয়ে মিটারটি তাদের অফিসে রেখে দিতে বলি। এর মধ্যে নিহত দুদু গাজী ছোট সুন্দর বাজার থেকে উক্ত সম্পত্তির সামনের রাস্তার পাশে এসে দাঁড়ালে প্রায় ১২০ ফুট দূরে মনিরের সাথে আমার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুদু গাজী তার ছেলেকে ডাক দিয়ে চলে আসতে বলে স্ট্রোক করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার মৃত্যুতে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। তখন স্থানীয়রা সহ আমরা ওনাকে মাটি থেকে তুলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চাঁদপুরে পাঠিয়ে দেই। পরে শুনি তিনি মারা গেছেন। এর আগেও দুদু গাজী কয়েকবার স্ট্রোক করেন। গত কয়েকদিন আগের বৃষ্টিতে বাড়ির সামনে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙ্গে আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দেন। আমরা উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি এবং আামাদের কে অহেতুক হয়রানি থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
নিহতের বড় ছেলে মনির হোসেন জানান, হেলাল গাজী গংরা আমাদের নিজেদের সম্পত্তিতে অন্যায়ভাবে ঘর নির্মাণ করে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ঘটনারদিন সকালে ওই সম্পত্তিতে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে আসলে আমি বাঁধা প্রদান করি। পরে বিদ্যুতের লোকজন চলে গেলে আমার বাবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে ওখান থেকে চলে আসতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হেলাল গাজী গংরা আমার বাবাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে আমার ডাক চিৎকারে আমার পরিবার ও আশপাশের লোকজন সহ বাবাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী জানান, ঘটনাটি মোবাইলে শুনতে পেয়ে আমি তাৎক্ষনিক গ্রাম পুলিশ কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শী ৪/৫ জনের দেয়া তথ্য মতে, দুদু গাজী যেখানে লুটিয়ে পড়েছেন সেখান থেকে বিদ্যুতের খুঁটি প্রায় ১২০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত। বিদ্যুতের খুঁটির কাছে ছিল মনির গাজী ও হেলাল গাজী পক্ষের ৩/৪ জন, সেই প্রেক্ষিতে দুদু গাজীর মৃত্যুতে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। পরে প্রাথমিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ সহ উপস্থিত হই। আমি উক্ত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এদিকে ঘটনার সময় উপস্থিত মাসুদ পাটওয়ারী, মিলন হোসেন ও সেফায়েত উল্যাহ নামে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মীদের জানান, দুদু গাজীর মৃত্যুতে মারধরের কোন ঘটনাই ঘটেনি। উনি ওনার ছেলেকে বিদ্যুতের খুঁটির সামনে থেকে চলে আসতে বলেন। এ সময়ে উচ্চ স্বরে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আমরা উদ্ধার করি। আর এসব ঘটনা আমাদের সামনেই ঘটেছে।
এ ঘটনায় রবিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শেখ মুহসীন আলম, রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী ঘটনাস্থলে আসেন। এর আগে বাদ জোহর নিহতের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে রবিবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শেখ মুহসীন আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে কোন জখমের চিহ্ন দেখা যায়নি। তারপরও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সরেজমিনে তদন্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য সাপেক্ষে এর সত্যতা জানা যাবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital