জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা
কারা অভ্যন্তরে কুচক্রি-খুনিদের হাতে প্রাণ দেন জাতীয় ৪ নেতা : জিল্লুর রহমান জুয়েল
জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে শহরের কদমতলাস্থ শিক্ষামন্ত্রী বাসভবনে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌর মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল।

তিনি বলেন, কারাগার হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। অথছ সেই কারাগারে জাতীয় বীরদের হত্যা করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবরে পুলিশ বিএনপিকে সর্বাত্বক ভাবে প্রটোগল দিয়েছে। অথছ সেই নীরিহ পুলিশকেই তারা হিংস্রভাবে হত্যা করেছে। কোন অবস্থাতে এই অপশক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। এদের মাঠে নামতে দেওয়া যাবেনা। আমাদের সকল শক্তিকে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে হবে। এদের মোকাবেলা করার জন্য আমাদের সাংগঠনিক শক্তিই যথেষ্ট। তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তারা বিদেশীদের উপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিলো।

তিনি বলেন, “বাঙালি জাতির ইতিহাসে যে কয়টি কলঙ্কজনক অধ্যায় রয়েছে, তার মধ্যে জেলহত্যা দিবস একটি। কারা অভ্যন্তরে কুচক্রি-খুনিদের হাতে প্রাণ দেন জাতীয় ৪ নেতা। খন্দকার মোস্তাক আওয়ামী লীগের একজন নেতা ছিলেন। কিন্তু সে ছিলো মীর্জাফর। সে বঙ্গবন্ধুকে প্রথম আঘাত করে।”

তিনি আরও আরো বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে। এরপর খুনি মোশতাকের নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধী ওই চক্রটি এ দেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশ যাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আর এগোতে না পারে, স্বাধীনতা যাতে ব্যর্থ হয়, বাংলাদেশ যাতে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয় সেই চক্রান্ত করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র অগ্রসর হয়। এরই অংশ হিসেবে এবং এ দেশে যাতে কোনদিন স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার, হত্যা, নির্যাতনের ষড়যন্ত্র শুরু করে। সেই ষড়যন্ত্র থেকেই জেলখানার ভেতরে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করে তারা। মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে থেকে জাতীয় চার নেতা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জেল হত্যা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাঁদপুরের সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।”
চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রাধা গোবিন্দ গোপের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুলের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক পিপি অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদা নূর খান, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা ইলিয়াস, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমন, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক শেখসহ আরো অনেকে।








