শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভায়

সমবায় ঋণ নিয়ে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব : ডিসি কামরুল হাসান

সজীব খান প্রকাশিত: শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৩, ৮:১৩ পিএম
সমবায় ঋণ নিয়ে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব : ডিসি কামরুল হাসান

চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এবছর প্রতিপদ্য বিষয় ছিলো ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়নে।

এ উপলক্ষে ৪ নভেম্বর শনিবার সকালে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১১ টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। চাঁদপুরে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সদর উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সমবায় অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সমবায় সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

Model Hospital

উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে আালোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান, এ সময় জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হলে সমবায় হচ্ছে একটি অন্যতম মাধ্যম। সমবায়ের অনেকেই ঋণ নিয়ে উপকৃত হচ্ছেন, অনেক বেকার যুবকরাও স্বাবলম্বী হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঋণ দেয়া-নেয়া নিয়ে ও অনেক সময় সমবায়দের সমস্যায পড়তে হয়। ঋন নিয়ে অনেকেই উদাও হয়ে যায়। সে সমস্যাগুলো নিজেরাই মিটানোর চেষ্টা করবেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই এদেশে সমবায় সমিতি এসেছে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য যুব সমাজকে সমবায়ের দিকে এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষিত বেকার না থেকে সমবায়ী হলে নিজে নিজেই স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভাব হবে। বাংলাদেশ দূরবার গতিতে এগিয়ে যাবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বশির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা সমবায় অফিসার মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিমা চাকমা, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ, জেলা সমবায় অফিসার মজিবুর রহমান খান, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আরশ্বাদ মিয়াজী, দি চাঁদপুর মাল্টিপারবাসের ইকবাল আজম, সাবেক সদর উপজেলা সমবায় অফিসার দুলাল চন্দ্র দাস, চান্দ্রা বিকল্প বহুমুখী সমবায় ব্যবস্থ্পনা পরিচালক শাহবুদ্দিন, সহ পরিচালক নাছির উদ্দিন, খালেদ খান প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে ৩টি ক্যাটাগরিতে জেলার শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি ও সমবায়ীদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’