শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জীবনদীপের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১:১৬ পিএম
জীবনদীপের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভা
”মানবের কল্যাণে তোমার জয় অনিবার্য, জীবন জয়ের হৃদ্যতা নিয়ে দাঁড়াও পাশে বন্ধু’ এই স্লোগানকে ধারণ করে পথচলা মানব উন্নয়ন সেবামূলক সংস্থা ‘জীবনদীপ’ -এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের ফিডার রোডস্থ জিবন্দীপের নিজস্ব কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসিন আরাফাত। প্রধান অলোচক ছিলেন, জীবনদীপের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার।

জীবনদীপের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিত সাহার সভাপতিত্বে এবং পরিচালক মৃদুল কান্তি দাসের পরিচালনায়  বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লা মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসুদেব মজুমদার, ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপক দ্বীপক চক্রবর্তী, জীবনদীপের উপদেষ্টা বিমল চৌধুরী, অ্যাড. মাসুদ রানা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালী জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাহত দিন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যখন জেনে গেলো তাদের পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা একটি নীলনকশা করেছিলো। তারা বুঝতে পারলো বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এই দেশটি গড়ে তুলতে বুদ্ধিজীবীরা মেধা ব্যায় করবেন। তাই সে নীলনকশার অংশ হিসেবে ১৪ ডিসেম্বর দেশের বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকা করে, তাদের ধরে ধরে এনে হত্যা করছে। মূলত তাদের উদ্দেশ্য ছিলো বাঙালী জাতিকে মেধাশূন্য করে দেয়া।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, জীবনদীপ একটি সেবামূলক মানবিক সংগঠন। তারা মানুষ ও মানবতার জন্য কাজ করে। এ সংগঠনটি সমগ্র বাংলাদেশে অযস্র মানুষকে রক্ত দিয়েছে। আমরা যতটুকু জেনেছি জীবনদীপ প্রতিষ্ঠার পেছনে একটি সমৃদ্ধ এক ইতিহাস রয়েছে। আমরা এই সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। তারা যাতে আরো বেশি মানবকল্যান কাজ করে সে প্রত্যাশা রইলো। আমরা জীবনদীপের সাথে ছায়ার মত থাকবো।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের উপদেষ্টা দুলাল চন্দ্র গোস্বামী, মৈশাদী সপ্রবির প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জিত কর, বিবেকানন্দ যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ মুজুমদার, কবি ও গল্পকার অ্যাড. রফিকুজ্জামান রণি, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রেবেকা সুলতানা বকুল, মরনত্তর দেহ দানকারী লিলা মজুমদার, রক্তদাতা এবং জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর ফারুক, শিক্ষিকা কামরুন নাহার, জয়ন্তি ভৌমিক, নাজনীন হোসাইন, রক্তদাতা অ্যাড. শাহালম, দন্ত চিকিৎসক পিয়ম মজুমদার।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লা মিয়া, গীতা পাঠ করেন জয়ন্তি ভৌমিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক বিথি কর্মকার, নুসরাত জাহান, সুমি শীল, ইভা, কাকলী, স্বপ্না ভট্টাচার্য, জীবনদীপের উপদেষ্টা ইসমাইল খান, রিয়াদ হোসেন, মো. রায়হান, তাপস, সদস্য মুশফিক, তাসরিফ, জাহান, শুভ, দ্বীপ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’