রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

১৭ মাসে কোরআন হেফজ করে সুম্মিয়া আলম সারা’র চমক

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪, ৯:৫৬ পিএম
১৭ মাসে কোরআন হেফজ করে সুম্মিয়া আলম সারা’র চমক

মাত্র সাড়ে ১৭ মাসে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজা হয়েছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ‘জিন-নূরাইন মহিলা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের’ এক ছাত্রী।

ওই ছাত্রী হলেন- সুম্মিয়া আলম সারা (১২)। সে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার মকিমাবাদ এলাকার পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ শুকুর আলম শুভ ও মিসেস লুনা আলমের মেয়ে।

মাদরাসার সূত্রে জানা গেছে, সুম্মিয়া আলম সারা’র কোরআন হেফজ করতে সময় লেগেছে মাত্র সাড়ে ১৭ মাস। এমনও ঘটেছে যে সারা একদিনে ১ পাড়া সবক দিয়েছেন।

জিন-নূরাইন মহিলা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ওস্তাদ জানান, সুম্মিয়া আলম সারা তার মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে তা সম্ভব করেছে। স্বাভাবিকভাবে অন্যদের তিন/চার বছর বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লেগে যায়, সেখানে সুম্মিয়া আলম সারা অল্প সময়ে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে।

Model Hospital

তিনি জানান, যারা পবিত্র কোরআন মুখস্ত করেছে আমি তাদের সার্বিক সফলতা কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা তাদের দ্বীনের জন্য কবুল করুন।

সুম্মিয়া আলম সারা বাবা শুকর আলম শুভ বলেন, আমার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। সবার বড় সারাকে হাফেজা বানানোর ইচ্ছে ছিলো পরিবারের। এত তাড়াতাড়ি সে পুরো কোরআন মুখস্ত করে ফেলবে তা কখনো ভাবিনি।

তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে এতো কম সময়েই সে কোরআন মুখস্থ করতে পেরেছে। তাই আমরা সবাই আনন্দিত। আমার ছোট ছেলে আবুদুল্লাহ্ আলম সাদকেও হাফেজ বানাবো নিয়ত করেছি। ইতিমধ্যে সে নাজেড়া শেষ করছে। সারা যাতে কোরআন ও হাদিসের খেদমত করার পাশাপাশি দেশ ও জাতির খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করে সেই দোয়া করি।

সুম্মিয়া আলম সারা’র মা লুনা আলম বলেন, আমার মেয়ে কম সময়ে কোরআন মুখস্থ করেছে এতে আমরা আনন্দিত। তারও ইচ্ছে ছিল কম সময়ে কোরআন মুখস্থ করবে, চেষ্টায় সে সফল হয়েছে। সারা যাতে জীবনে সফল হতে পারে তাই সবার কাছে দোয়া চাই।

প্রসঙ্গত, জিন-নূরাইন মহিলা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগ থেকে এক সাথে ৬ জন ছাত্রী পুরো কোরআন মুখস্থ করে হাফেজা হয়েছেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।