সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের সেমিনার পেপার উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৪, ১:৪৯ পিএম
চাঁদপুর সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের সেমিনার পেপার উপস্থাপন

ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ চাঁদপুর সরকারি কলেজে বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২:০০টায় বাংলা বিভাগের আয়োজনে কলেজ কনফারেন্স কক্ষে “সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাস: নির্দিষ্ট সমাজকাঠামোর এক শাশ্বত জীবনবোধ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগীয় প্রধান অমর চন্দ্র দাসের সভাপ্রধানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রভাষক ফাতেমা আক্তার।

বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরীফ মাহমুদ চিশতীর সঞ্চালনায় সেমিনারে মুখ্য আলোচক ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ সাইদুজ্জামান। প্রবন্ধের উপর আরো আলোচনা করেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ মোঃ খলিলুর রহমান এবং অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ। সকল বক্তাই বর্তমান সমাজ-ব্যবস্থায় লালসালু উপন্যাসের অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।

ফাতেমা আক্তার তার প্রবন্ধে দেখিয়েছেন ‘লালসালু’ উপন্যাসে কীভাবে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ প্রতারণার মাধ্যমে মহব্বতনগর গ্রামে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে। নিরস্তিত্ব ও উদ্বাস্তু মজিদকে এজন্যে যে নেতিবাচক সত্তা অবলম্বন করতে হয়, তা তিনি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন।

Model Hospital

মুখ্য আলোচক মোঃ সাইদুজ্জামান বলেন, ‘শিকড়হীন, উন্মুলিত মজিদ শেকড়ের সন্ধানে সংগ্রাম করেছে প্রতিনিয়ত। শক্তি ও বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও দু’বেলা ভালোভাবে খেয়ে বাঁচবার চেষ্টায় যখন ব্যর্থ হয়েছে; তখনই আত্মনির্মিত পন্থা প্রতারণার আশ্রয় নেয় সে।

এতে সফলতার মুখ দেখেছে, আবার পতন এবং তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা। ধর্মকে পুঁজি করে মজিদ যে জাল বিস্তার করেছে তা কেবল মহব্বতনগর গ্রামেরই নয়, সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র।

বর্তমান সময়ে মজিদের চেয়েও ভয়ংকর এবং স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি আমাদের সমাজে বিরাজমান- যারা মিথ্যা বুলি আওড়িয়ে সহজ-সরল মানুষদের নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণার জাল সৃষ্টি করছে।’

সেমিনার শেষে সভাপতি মহোদয় সকলকে এই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বাঙালির ঐতিহ্য পিঠাপুলি দিয়ে আপ্যায়ন করান।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।