রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কখনও ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের ফরমেটে সিরাপ আবার সিরাপের ফরমেটে ট্যাবলেট লিখেছেন

দিনে ৩ বার, তিন মাস কৃমির ওষুধ খেতে বললেন চিকিৎসক

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ৮:৫৯ পিএম
দিনে ৩ বার, তিন মাস কৃমির ওষুধ খেতে বললেন চিকিৎসক

কৃমিনাশক ওষুধের ডোজ দিনে তিনবার তিন মাস- এমন কথা সাধারণত কেউই বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু এমন কথা যখন কোনো চিকিৎসক লিখিত আকারে প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে বলেন, তাহলে কেমন হবে?

সাধারণত চিকিৎসকরা লিখিত আকারে কিংবা মৌখিকভাবে যা বলেন, রোগী তা অক্ষরে অক্ষরে পালনের চেষ্টা করে থাকেন। সাধারণ কৃমিনাশক ওষুধ এমবিবিএস কোনো চিকিৎসক প্রতিদিন একটা করে তিনবার তিন মাস খেতে নির্দেশনা দেয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের বৈধতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আশা স্বাভাবিক।

এমনই প্রেসক্রিপশন লিখেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাস করা চিকিৎসক দাবি করা সুমাইয়া আজাদ প্রাপ্তি। তিনি রংপুর মেডিকেল থেকে এমবিবিএস সিএমইউ আল্ট্রা এবং বিএমডিসি (রেজি : এ-১৩০৩৮৮) নিবন্ধনকৃত।

সুমাইয়া আজাদ প্রাপ্তি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মজিদিয়া ট্রাস্টের আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্ত্রী, প্রসূতি গাইনি, মেডিসিন রোগের অভিজ্ঞ এবং সনোলজিস্ট পরিচয়ে নিয়মিত রোগী দেখেন।

Model Hospital

তবে নিজের এমন ভুল স্বীকার করতে নারাজ তিনি। ওই চিকিৎসক বলেন, ‘এটি কলমের ভুল (স্লিপ অব পেন)।’ কলমের ভুলেই না কি এমনটা হয়েছে। কালবেলাকে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে ডাক্তার সুমাইয়া আজাদ প্রাপ্তি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তার এ একটু ভুলে যে মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন দেখা দিবে তিনি হয়ত সেটা জানেন না।

ভিডিও বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ‘ক্যালসিয়ামের ওষুধ এনজেনটা ডিএস লিখতে চেয়েছিলেন, সেটা কলমের ভুলে এলবেন ডিএস হয়ে গেছে।’

এমনই একটি প্রেসক্রিপশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসক সুমাইয়া আজাদ প্রাপ্তির চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন উঠেছে তার সার্টিফিকেট বৈধ কি না।

তবে নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক ফার্মেসির পরিচালক জানিয়েছেন, এমন ভুল তিনি একাধিকবার করেছেন। কখনও ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের ফরমেটে সিরাপ আবার সিরাপের ফরমেটে ট্যাবলেট লিখেছেন।

এ বিষয়ে মজিদিয়া ট্রাস্ট আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মাহবুবুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।