শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বাধীনতার ৫০বছর পুর্তিতে মতলব উত্তরে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ফাইনালের পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২২, ৫:১১ পিএম
স্বাধীনতার ৫০বছর পুর্তিতে মতলব উত্তরে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ফাইনালের পুরস্কার বিতরণ

মতলব উত্তর উপজেলায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী টি-১০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ফাইনালের পুরস্কার বিতরন করলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন মাঠে মহান স্বাধীনতার ৫০বছর পুর্তি উপলক্ষে ৫০ বলের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল হক।

উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহনে ২ জানুয়ারী (রবিবার) বিকালে অনুষ্ঠিত ফাইনালের পুরস্কার বিতরন পূর্বক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজকের ক্ষুদে ক্রিকেটাররাই আগামী দিনের মাশরাফি-সাকিব-তামিম হয়ে দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করবে।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজনে সুবিধা বঞ্চিত অনগ্রসরমান প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে সামনে দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ফাইনাল খেলায় ছেংগারচর মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ক্রিকেট একাদশ ১৩ রানে কালিপুর স্কুল এন্ড কলেজ দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ান হবার গৌরব অর্জন করে। টসজিতে কালিপুর স্কুল এন্ড কলেজ ক্রিকেট একাদশ প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ছেংগারচর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ক্রিকেট একাদশ ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে নাফিজ ৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং আরেফীনের সংগ্রহ ৫০ রান। জবাবে কালিপুর স্কুল এন্ড কলেজ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে ৯৪ রান করতে সক্ষম হয় মেহেদী হাসান।

Model Hospital

খেলায় ১৫টি ছক্কা হাকিয়ে ৯৪ কারিপুর স্কুল এন্ড কলেজের মেহেদী হাসান ম্যান অব দ্যা ফাইনাল হবার গৌরব অর্জন করেন। আর ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয় ছেংগারচর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নাজমুস সাকিব নিয়ম।

খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন সুমন ও সুজন আর ধারা বর্ননায় ছিলেন সোহেল ইভান ও লোকমান হোসেন। এই ৫০বলের ত্রিকেট টুর্নামেন্টে উপজেলার ৩২ টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করে। মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক সহযোগীতায় এই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরিফুল হাসান এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক একেএম আজাদ এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আরো বলেন, শরীর ও মনকে ভালো রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে শরীর চালনা যা ক্রমাগত শারীরিক দক্ষতা বাড়িয়ে তোলে। তাই খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শরীরচর্চা করা একান্ত প্রয়োজন।

কিন্তু বর্তমান সময়ে শিশু থেকে শুরু করে ছাত্রসমাজ অধিকাংশই খেলাধূলা বলতে বোঝে অনলাইন ভিডিও গেম। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর যেমন, তেমনই মানসিক বিকাশের পথেও অন্যতম বাঁধা।

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা মানুষের মন ও শরীরকে অনেক দৃঢ় করে। সুন্দরভাবে বাঁচতে শরীর ও মনের সুস্থ্যতার বিকল্প কিছু নেই। খেলাধুলা আমাদের উভয় জিনিসেরই উন্নতি সাধন করে। শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি সৃষ্টিতেও খেলাধুলা অনেক বেশি প্রয়োজনীয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’