শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাত পোহালেই ফরিদগঞ্জের ১৩ ইউনিয়নে ভোট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২২, ২:৪১ পিএম
রাত পোহালেই ফরিদগঞ্জের ১৩ ইউনিয়নে ভোট
এস. এম ইকবাল : রাত পোহালেই ৫ই জানুয়ারী বুধবার সকাল ৮ ঘটিকা থেকে বিরামহীন ভাবে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ইতোমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস। ভোটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
 উপজেলা নির্বাচনন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। নির্বাচনে ৭৩জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ১২৫ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী ও ৪শ ৯৩ জন সাধারণ সদস্য অংশ গ্রহণ করছেন।
১৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে লড়ছেন নারী ও পুরুষসহ মোট ৬ শ ৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন।
উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১২২ কেন্দ্রে ব্যালটা পেপার ছাড়া বাকী অন্য সরঞ্জামাদি পাঠানো হয়েছে। এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোট গ্রহনের কেন্দ্র ১শ ২২ , ভোট গ্রহনের কক্ষ ৭শ ৭২টি । ১৩টি ইউনিয়নের পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৪০ হাজার ৯৭৩ জন, মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৪১ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৪শ ১৪ জন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি ইউনিয়নে ১২২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে রয়েছেন ৫ জন রিটার্নিং অফিসার, সহ-প্রিজাইডিং অফিসার ১২২ জন ও পোলিং অফিসার ৫৬৪ জন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন সাব ইন্সপেক্টর এর নেতৃত্বে কেন্দ্র বিবেচনায় ১৭জন আনসারসহ ৩/৫জন পুলিশ ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে একজন নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ অফিসার দায়িত্বরত থাকবেন বলে জানা গেছে। পাশপাশি এপিবিএন, বিজিবি এবং র‌্যাবের কয়েক প্লাটুন মোবাইল টিম হিসেবে পুরো নির্বাচনী এলাকাকে নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে আসার ব্যবস্থা নিয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং মোঃ মিজানুর রহমান জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে শেষ করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশের মোবাইল টিমের পাশাপাশি একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জানান, নির্বাচনে প্রায় ২হাজার ৪শত পুলিশ সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার শিউলী হরি জানান, নির্বাচনে ভোটার নিরাপদ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। সুষ্ঠু ও ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’