শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে দুই গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট, আহত-৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:০২ পিএম
মতলব দক্ষিণে দুই গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট, আহত-৮

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : মতলব দক্ষিণে দুই গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মিরামা তালুকদার বাড়ি এবং নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাগিচাপুর গ্রামের জুনাব আলী মিয়াজী বাড়িতে এ ডাকাতি সংগঠিত হয়। এসময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ ডাকাতের দল। এসময় জান মাল রক্ষা করতে গিয়ে ডাকাত দলের হামলায় দুই গ্রামে কমবেশি আহত হয়েছেন আট জন।

আহতরা হলেন, মিরামা গ্রামের ইসমাইল তালুকদার (৫৫), স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বিউটি (৪৫), ছেলে বাধন (১৪) ও ববি ( ৫) , এবং বাগিচাপুর গ্রামের জুনাব আলী ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম এবং পাশের ঘরের মাওলনা আবুল হোসেন ও তার মেয়ের জামাতা রেদওয়ান উল্লাহ।

জানা যায়, গতকাল ৩ জানুয়ারী সোমবার রাত ২টার দিকে ১৫/২০ জনের মুখোশধারী একটি ডাকাতের দল উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মিরামা তালুকদার বাড়ির ইসমাইল তালুকদারের বাড়ির প্রধান গেইট কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল থানা পুলিশের পরিচয় দিয়ে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ব্যবসায়ী ইসমাইল তালুকদার এবং স্ত্রী-সন্তানকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে আলমারি ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান কাপড়সহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় ডাকাত দলকে স্বর্ণের কথা বলতে রাজি না হওয়ায় ডাকাতদল ইসমাইল তালুকদারের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বিউটিকে বেধরক মারধর করে। প্রায় দুই ঘন্টা ডাকাতদল ঘরে অবস্থান শেষে সবাইকে বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে একই কায়দায় উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাগিচাপুর মিয়াজী বাড়িতে একতলা বিল্ডিংয়ের ক্যাসিগেইটের তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতের দল । এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ও প্রায় ১৫ ভরী স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। এসময় পাশের ঘরের লোকজন টেরপেয়ে ঘর থেকে বের হলে আবুল হোসেন ও তার মেয়ের জামাতা বদরপুর গ্রামের মো. রেদওয়ান উল্লাহকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে।

Model Hospital

পরে আহতরা মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ মিরামা গ্রামের ইসমাইল হোসেন তালুকদার বলেন, ডাকাতের দল আমার বাড়ির ক্যাসিগেইটের তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আমাকে ও আমার স্ত্রী-সন্তানকে বেধে এক কক্ষে আটকে রাখে। পরে অস্ত্রের মুখে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চাবি নেয় ও ঘরের যা কিছু ছিল সব লুটে নেয়। চাবি দিয়ে খুলতে না পেরে সবকিছু ভেঙে তছনছ করে চলে যায় ডাকাতরা।

বাগিচাপুর গ্রামের জুনাব আলী মিয়াজীর পুত্রবধূ সুমি আক্তার বলেন, বিল্ডিং এর গেইটের তালা ভেঙ্গে অস্ত্রের মুখে আমার সন্তানদের জিম্মি করে আলমারীর চাবি নিয়ে যায় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢালী, ইউপি  সদস্য মো. সুরুজ্জামান ও মহিলা সদস্য রানু বেগম।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’