রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব নারায়ণপুরে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ

স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে তারা এদেশে শাসনের নামে শোষণ করেছে : মাওলানা জাফরী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৪৭ পিএম
স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে তারা এদেশে শাসনের নামে শোষণ করেছে : মাওলানা জাফরী
জুলাই গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার ও সংখানুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের গনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে নারায়নপুর বাজারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মতলব দক্ষিন উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ঘুরেফিরে যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে তারা শাসনের নামে শোষণ করেছে। এই জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। আজও সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার ১৭ বছর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ইতিহাসের সেই নিকৃষ্টতম স্বৈরশাসকের পতন হয়েছে। ১৭ বছর এদেশের সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতনের নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন মেঘা প্রকল্পের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশের সম্পদ লুট করেছে।
এসব প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে শেখ হাসিনার সরকার। দেশে যত সমস্যা আছে তা দূর করতে আপনারা কাজ করবেন। রাষ্ট্র সংস্কার হচ্ছে, সংবিধান সংস্কার হচ্ছে, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুনে ধরা প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। আমাদের সকলকেও সংস্কার হতে হবে। রাজনীতিতে ও সংস্কার প্রয়োজন, নির্বাচন পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে সন্ত্রাস দুর্নীতিবাজ মুক্ত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা হবে।
গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী।
তিনি বলেন, এদেশের ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। আমরা আর কোনো নব্য স্বৈরাচার কে রাস্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চাইনা। এদেশে চরমোনাই পীরের মাধ্যমে ইসলামী রাস্ট্র দেখতে চায় সকল শ্রেণীর মানুষ। দিনের ভোট রাতে হতে দিবে না ইসলামী আন্দোলন।
গণ সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমেদ সাকী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের চাঁদপুর জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ জামাল গাজী সোহাগ, সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আফসার উদ্দিন।
মতলব দক্ষিন উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আনসার আহমেদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আলহাজ্ব শরিফুল ইসলাম সুজনের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা যুব আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা ইমরান হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক শেখ মোঃ হাবিবুর রহমান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুব আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা মঈনুদ্দিন, মতলব দক্ষিন উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম প্রমুখ।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।