সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মায়া চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন 

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:১০ পিএম
মায়া চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বিএনপির সংবাদ সম্মেলন 
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরের বাড়িতে গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে ভাংচুর, লুটপাট ও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মো. সিপন মিয়া বাদী হয়ে ৪১ জনকে আসামি করে এবং ৭০/৮০ জনকে অজ্ঞাত করে মতলব উত্তর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ২৪। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৬জন আসামিকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর আদালতে প্রেরন করেন থানা পুলিশ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে মোহনপুর ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান নিপু লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত শনিবার ১৬ নভেম্বর মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সাহেবের বাড়িতে কে বা কাহারা রাতের অন্ধকারে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অগ্নি সংযোগের ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কোন নেতা কর্মী জরিত নেই কেউ। আমরা প্রশাসনের কাছে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যাতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানি না হয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মোহনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি সানাউল্লা হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাফায়াত খান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদ ব্যাপারী, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কবির তফাদার, সাধারণ সম্পাদক কবির সরকার, প্রচার সম্পাদক এনামুল হক, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহেল রানা তালহা, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুজন প্রধান, যুবদল নেতা মো. সোহরাফ মিয়া, বিএনপি নেতা আমান উল্ল্যা মৃদা, বাবুল খান, আমজাদ গাজী’সহ ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।